অক্টোবরেই আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন

চলতি বছরের অক্টোবরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান (২০তম) কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। সেই অনুযায়ী অক্টোবরেই ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মাঝে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সম্মোলনকে ঘিরে দলের ভেতর-বাহির চলছে তোড়জোড়। বর্তমান কমিটির মেয়াদ সন্নিকটে।

এদিকে বর্তমান কমিটি ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় সম্মেলনের পর ৬৪ জেলার মধ্যে শুধুমাত্র মৌলভীবাজার জেলার কমিটি দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে বর্তমান কমিটির পক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল বলেছেন জাতীয় সম্মেলনের পূর্বেই জেলা ও উপজেলার কমিটি দেয়া হবে।

তবে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, ৬৪টি জেলা, উপজেলার সম্মেলন জাতীয় সম্মেলনের আগেই সম্পূর্ণ করার নির্দেশনা রয়েছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সে নির্দেশনা অনুযায়ী দল ইতোমধ্যে কার্যক্রমও শুরু করে দিয়েছে। আসন্ন অক্টোবরেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বলে জানান দলের অন্যতম দায়িত্বশীল এক নেতা।

সম্প্রতি দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং বেশ কিছু জেলায় বন্যার কারণে নেতাকর্মীরা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে ব্যস্ত থাকায় দলের ভেতর থেকে সম্মেলনের পেছানোর কথা উঠছে। সম্মেলনের পিছানোর বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ  বলেন, আমি সম্মেলন পেছানোর কোন খবর আজ পর্যন্ত পাইনি। পেছানোর নিয়ে যারা বলেছেন, তারা একথা কোথা থেকে পেলেন তা আমি জানি না।

আহমদ বলেন, সম্মেলন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব জেলা ও উপজেলার সম্মেলন হয়নি তাও অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে। প্রাকৃতিক সসম্যা সম্মেলনের জন্য অন্তরায় হবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য চলতি বছরের ২৭ মার্চে আট বিভাগে আটটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে এই টিম বিভিন্ন বিভাগে সাংগঠনিক সফরও শুরু করে। রমজান এসে যাওয়ায় দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, রমজান মাসের পরপরই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করা হবে। কিন্তু বন্যা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি সাথে সাথে সেই কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়। কার্যত দু-একটি উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাড়া কোথাও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ  বলেন, দলের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে, আসন্ন অক্টোবরেই আমাদের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর ব্যতিক্রম আমি শুনিনি। তবে সেপ্টেম্বরে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে যদি পিছিয়ে যাওয়ার কথা উঠে আসে তাহলে ভিন্ন কথা। তবে আমি যত দূর জানি নেত্রীর ইচ্ছা যথাসময়েই সম্মেলন শেষ করার।

বর্তমান কমিটি ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র ১টি জেলায় সম্মেলন করতে পেরেছে, এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে মেসবাহ বলেন, এটা কোন সমস্যা নয়। অচিরেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত এই কমিটি কাজ করবে। দীর্ঘদিন যেখানে সম্মেলন হয়নি, সেখানে অচিরেই সম্মেলন হবে। আমরা সে জন্য কাজ করছি।

উল্লেখ্য, বর্তমান কমিটির আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৭৭টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় সম্মেলনের পর মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১৭ সালে ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার সম্মেলন হয়। এদিকে রাজনীতির মাঠে ব্যাপক সক্রিয় কাদেরের আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী সজ্জন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৫৮টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন করেছিলেন। পক্ষান্তরে ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পর ২০১৭ সালে ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার সম্মেলন হয়। আর সব জেলা কমিটিই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ।

You might also like