অল্পের জন্যে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বাঁচলেন শতাধিক মানুষ

বগুড়ায় ভিন্ন লাইনে ট্রেন আসার পরও চালকের ক্ষিপ্রতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেলেন শত শত মানুষ। তবে রেল লাইনের উপর ভাসমান দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা মার্কেটে ট্রেন ঢুকে পড়ায় আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে এক নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বগুড়া স্টেশনের কাছে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাওলা গ্রামের হাসেম আলীর ছেলে মানিক (৫৫) ও গাবতলী উপজেলার উনচরকি গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী রুমি আকতার (২২)।

বগুড়া স্টেশনের মাস্টার এস এম আব্দুল্লাহ্ জানান, দিনাজপুর থেকে সান্তাহারগামী আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন দু’টির বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ বগুড়া স্টেশন ক্রস করার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১১টা ৫৭ মিনিটে পূর্ব দিক দিয়ে স্টেশনে ঢুকছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ক্রসিংয়ের জন্য তাকে দুই নম্বর লাইন দিয়ে প্রবেশের সিগন্যাল দেওয়া হয়। রেললাইনের ওপর অবৈধভাবে দোকান খুলে বসা ভাসমান দোকানিরা এবং ক্রেতারা মনে করেছিলেন- ট্রেনটি এক নম্বর লাইন দিয়েই সোজা স্টেশনে চলে যাবে। ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ ২/৩টি বগি যখন দুই নম্বর লাইনে ঢুকে পড়ে তখন সবাই ছোটাছুটি শুরু করে। ঠিক সে সময় দোলনচাঁপার চালক তারিক রহমান ব্রেক কষে ট্রেনটিকে থামিয়ে দেন। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টেশনে ঢোকার সময় ‘আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের গতি কম থাকায় এবং চালক দ্রুত ব্রেক কষায় যাত্রী ও ভাসমান মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা লোকজন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়। তবে তাড়াহুড়া করে ওই ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে এক নারীসহ দুই যাত্রী আহত হন। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় অস্থায়ী ৭টি দোকান ভেঙে গেছে। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বজলুর রশিদ জানান, আহত দুই ট্রেনযাত্রীর মধ্যে মানিকের পায়ের পাতা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। আর রুমি আকতারের পা বিচ্ছিন্ন না হলেও তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন।

আরও পড়ুন