আওয়ামী লীগে ঐক্যের ডাক দিলেন বাহাউদ্দিন নাছিম

মাদারীপুরে জেলা আওয়ামী লীগে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রুপিং দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই গ্রুপিং দ্বন্দ্বের জের ধরেই প্রায় ৩০ বছর একে অপরের মুখোমুখি ছিল দুই গ্রুপ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সামনেই বাহাসে জড়ায় শাজাহান খান ও বাহাউদ্দিন নাছিম। এ সময় দলীয় সভানেত্রী মাদারীপুরের দ্বিধা বিভক্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরিহার করে মিলেমিশে দলকে সুংগঠিত করার নির্দেশ দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের আগে মাদারীপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শাজাহান খান ছিলেন জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা। ১৯৯১ সালে মাদারীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের আগে শাজাহান খান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে মাদারীপুরে শুরু হয় গ্রুপিং দ্বন্দ্ব। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। একাংশের নেতৃত্ব দেন সাবেক মন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান এবং অপর অংশের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম।

 

গত ৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের মিলেমিশে কাজ করা নির্দেশ দেয়ার পর ঐক্যের ডাক দেন বাহাউদ্দিন নাছিম। বাহাউদ্দিন নাছিম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে সুসংগঠিত করার আহবান জানান।

গতকাল রবিবার বিকেলে এক স্মরণ সভায় বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনা যা বলবেন, তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, সেটা মেনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগ করতে নির্বাহী কমিটির সভায় যে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সেভাবেই আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবো। আমরা সকলে মিলে দলের নীতি আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য কাজ করে যাব। শেখ হাসিনার নির্দেশই আমাদের শেষ কথা।

রবিবার বিকেলে জেলার রাজৈরে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বাহাউদ্দিন নাছিম আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগ হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে বুকে ধারণ করা হবে। শেখ হাসিনা আমাদের প্রাণ, তিনি আমাদের গুরু, তিনি আমাদের চেতনা। সেটা মেনেই রাজনীতি করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

এদিন, রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মতিন তালুকদারের সভাপত্বিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অধ্যাপিকা তাহমিনা বেগম, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, মাদারীপুরে গত কয়েক দশক ধরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান দুইভাবে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করে আসছেন।

আরও পড়ুন