আসছেন ট্রাম্প, বস্তি আড়াল করতে দেয়াল তুলছেন মোদি

দিন দশেক বাদেই ভারত সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সফর ঘিরে আয়োজনের কমতি রাখছে না নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি সরকার। ট্রাম্পের এই সফরের আঁচ লাগছে মোদির রাজ্য গুজরাটের বস্তিতেও। তবে সেটা অন্যভাবে।

সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুজরাটের প্রথাগত ডান্ডিয়াও খেলবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সব মিলিয়ে আহমেদাবাদজুড়ে চলছে রীতিমতো এলাহীকাণ্ড।

এই শহরের কেন্দ্রে বস্তির ঝুপড়িতে বাস করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। এদের অধিকাংশরই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নজর থেকে তাদের দারিদ্র্য আড়াল করতে তাই উঠেপড়ে লেগেছে আহমেদাবাদ পৌরসভা। তবে সেটা ঝুপড়িবাসীর গরিবি দূর না করে, আপাতত তা লুকিয়ে রাখতেই সচেষ্ট তারা।

আহমেদাবাদ পৌরসভা মনে করছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে বস্তিবাসীর এই দুর্দশা প্রকাশ্যে চলে এলে তা শহর তথা দেশের জন্য ভালো বিজ্ঞাপন হবে না। তাই, শহরের মাঝ বরাবর আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে সর্দার প্যাটেল মোটেরা স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গেই এই রাস্তার ধারে যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ওই বস্তিটি আছে, সেই অঞ্চলে আধ কিলোমিটার রাস্তায় তৈরি করা হচ্ছে কংক্রিটের দেয়াল।

তবে পৌরসভার এমন পদক্ষেপে বেজায় অখুশি বস্তিবাসী। ঝুগ্গা বস্তির বাসিন্দা এক যুবক বলেন, ‘এভাবে সরকার আসলে গরিবদের অপমান করছে। আমাদের নিয়ে যদি সরকারের এতই সমস্যা, তাহলে গরিবি দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ করলেই তো হয়।’

বসতির অন্য বাসিন্দাদেরও একই কথা। তারা বলছেন, এই বঞ্চনা নতুন কিছু নয়। এর আগে যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আসেন, তখনো তাদের বসতি ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। তবে, এতদিন ওই বসতি এলাকায় দেওয়া হতো পর্দা। এবার একেবারে সরাসরি কংক্রিটের দেয়াল তোলা হচ্ছে।

বাসিন্দারা বলছেন, এই বস্তিতে এমনিতেই তাদের জীবন দুর্বিষহ। এবার তা আরও কঠিন হবে। শহরের ভেতরে ঢুকতে হলে অনেক ঘুরে ঘুরে যেতে হবে।

পৌরসভার চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

আরও পড়ুন