আসামী বাবাকে দেখতে লুকিয়ে ১০ কি. মি পাড়ি দিয়ে জেল খানায়

মহিমা’ বয়স মাত্র ৬ পেরিয়ে ৭ এ পড়েছে। মহিমার বাবা মজিবর মাদক মামলার আসামি হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে হাজতবাস করছেন। বাবাকে না পেয়ে বারবার তার মায়ের কাছে বায়না ধরেছে বাবাকে দেখার জন্য। অনেক দিনে বাড়িতে না আসায় বাবার জন্য প্রায়ই কান্নাকাটি করে মহিমা। এজন্য মায়ের হাতে তাকে মারধরও খেতে হয়েছে কয়েকবার। তবুও নাছোড় বান্দা সে। বাবার সাথে দেখা করবেই। বাবার প্রতি মেয়ের টান তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। মায়ের কাছে জানতে পারে তার বাবা জেলখানায় আছে। তাই ১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাবাকে এক নজর দেখার জন্য ফতুল্লার মাহমুদপুর করিম মার্কেট এলাকা থেকে একা একা নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ছুটে আসে ছোট্ট মহিমা।

 

কারাগারের সামনে এসে কীভাবে দেখা করতে হবে তা তো জানে না সে। উপায় না পেয়ে কাঁদতে থাকে। তার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে কারাগারের পরিবেশ। একা একা একটা ছোট্ট মেয়ে কারাগারের সামনে কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসে কারারক্ষীরা।

ছোট্ট মহিমাকে জিজ্ঞাসা করতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে সে। বলতে থাকে, সে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। মা তার বাড়িতে নির্যাতন করে বলে জেলখানায় বাবার খোঁজে একা একাই চলে এসেছে। কারা কর্তৃপক্ষ মেয়েটির সাথে কথা বলে তার বাবার সাথে দেখা করিয়ে দেয়। পরে কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার তানিয়া জামান বলেন, বাচ্চা মেয়েটি কান্না করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার বাবার সাথে দেখা করতে এসেছে। বাবার নাম বলতে পারায় তার বাবাকে খবর দেয়া হয়। বাবা নিজের মেয়ে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে মেয়ের বাবার থেকে ঠিকানা নিয়ে মেয়েটিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন