উত্তেজনার মধ্যেই কাশ্মীর যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা রাজ্যপাল সত্যপাল সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বাকযুদ্ধ পুরো ভারতবাসীর নজর কেড়েছিল।

কাশ্মীর নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করায় রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে সত্যপাল সিং বলেছিলেন, ‘রাহুল গান্ধীর জন্য প্লেন পাঠাচ্ছি। নিজে এসে দেখে যান উপত্যকার পরিস্থিতি কেমন রয়েছে।’

তারপরই বন্যাবিধ্বস্ত কেরালায় চলে যান রাহুল। সেখানে বেশ কিছুদিন বন্যাকবলিত এলাকায় কাটিয়েই এবার কাশ্মীর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

আজ শনিবারই জম্মু ও কাশ্মীর সফরে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির এই সফর। রাহুলের এই সফরের সঙ্গী হচ্ছেন ৯ বিরোধী দলের নেতা।

সূত্রের খবর, রাহুলের এই দলে রয়েছেন গুলাব নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা, তিরুচি শিবা, মনোজ ঝাঁ, দীনেশ ত্রিবেদী-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা। ৯ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের লাদাখ যাওয়ারও পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে এই ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ট্যুইট বিবাদে জড়ান জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল। কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার, সেখানে কাশ্মীরিরা ভাল নেই, মিলছে অশান্তি ও হিংসার খবর। এমন ট্যুইট করে পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী।

জবাবে রাহুলকে ভুয়া খবর ছড়ানোর জন্য তোপ দাগেন সত্যপাল মালিক। তিনি রাহুল গান্ধিকে এখানে এসে তারপর মন্তব্য করার উপদেশ দেন। দিল্লি থেকে রাহুলকে উড়িয়ে নিয়ে আসার জন্য বিমান পাঠানোর কথা বলেন। যদিও স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের নেতারা কাশ্মীরে কতটা স্বাধীনভাবে সফর করতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় আছে।

শুক্রবার সন্ধ্যেয় জম্মু ও কাশ্মীরের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতাদের জম্মু ও কাশ্মীর না যেতে বলা হয়েছে।

এক ট্যুইট বার্তায় জানানো হয়েছে, এই সফর জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাভাবিক জনজীবন ফেরানোর পথে বাধা সৃষ্টি করবে।

ওই ট্যুইট বার্তায় দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এখানে এখনও বহু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। শীর্ষ বিরোধী নেতাদের বোঝা উচিৎ এখন সেখানে শান্তি রক্ষা, নিরাপত্তা এবং জনসাধারণকে রক্ষা করা জরুরি।

সূত্রের খবর অনুসারে, এখনও জম্মু ও কাশ্মীরে ৪০০র বেশি বিরোধী দলনেতা-নেত্রীরা হয় গৃহবন্দী অথবা গ্রেফতার হয়ে আছেন। এদের মধ্যে আছেন দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি।

আরও পড়ুন