এমপি লিটন হত্যা মামলার রায় ‍নিয়ে যা বললেন স্ত্রী জাহান স্মৃতি

এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের আবেগ আপ্লুত হয়ে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন।

কাদের খানের ক্লিলাররা তার বাড়িতে ঢুকে নির্মমভাবে তার স্বামী এমপি লিটনকে হত্যা করে। সেজন্য কাদের খান এবং তার সহযোগীদের একমাত্র ফাঁসি তারা কামনা করেছেন। এছাড়া তিনি তার বক্তব্যে উচ্চ আদালতেও এই ফাঁসির রায় বহাল থাকবে এবং এই রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সেইসাথে তিনি কাদের খানসহ দন্ডপ্রাপ্ত সকল খুনিদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানান। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার শাসনামলেই এদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই তিনি দ্রুততম সময়ে তার স্বামীকে হারানোর বিচার পেয়েছেন।

এই মামলার বাদি লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল বলেন, রায় দ্রুত কার্যকরে তিনি এবং লিটনের পরিবার খুশি হয়েছেন। এজন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং এই রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয় তা প্রত্যাশা করেন।

এব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি পিপি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তিনি এবং বাদি সহ প্রয়াত এমপি লিটনের পরিবারের সদস্যরা এই রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। আদালতে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেননা মূল আসামি কাদের খানসহ আরও ৫ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন উচ্চ আদালতে এই রায় বহাল থাকবে।

আসামি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই, কেননা আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। এমপি লিটনকে যেভাবে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে আসামি কাদের খাঁনকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কেননা হত্যাকান্ডের সময় কাদের খাঁন দেশের বাইরে ছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

এই রায় ঘোষণার সময় উৎসুক মানুষ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আদালতে ভীড় জমায়। রায় ঘোষণার পর তাদের সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এসময় আদালত চত্বরে আইন শৃঙখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করেন এবং রায় ঘোষণার পর দ্রুত তাদের আদালত থেকে গাইবান্ধা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে হাজির হওয়ার সময় মূল আসামি কাদের খানের মুখে কোন উদ্বেগ ছিল না। বরং মৃদু হাসি মুখে ফুটিয়েই তিনি আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন। রায় ঘোষণার পরেও কাদের খানের মুখ ছিল বিমুর্ষ এবং চিন্তাযুক্ত।

আরও পড়ুন