করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে আইনি নোটিশ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী। নোটিশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মনিটরিং সেল গঠন, সারাদেশে পর্যাপ্ত মাস্ক সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ূন কবির পল্লব রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে স্বাস্থ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট আটজনকে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিশেষত সস্তায় তৈরি পোশাকের কাঁচামাল ক্রয় ও অন্যান্য হালকা যন্ত্রপাতির জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। উপরন্তু বাংলাদেশের অনেক মেগা প্রজেক্ট চলছে, যেখানে চীনের শত শত চীনা শ্রমিক কাজ করছে। এসব চীনা শ্রমিক তাদের দেশে ভ্রমণ করছে। প্রতিদিন আনুমানিক এক হাজার চীনা নাগরিক বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করছে। পাশাপাশি একটি বিরাট সংখ্যার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়ালেখা করছে। যে কারণে বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের জন্য একটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

আরো বলা হয়, করোনাভাইরাস ঠেকাতে শুধু বিমানবন্দর, স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও হাসপাতালগুলোতে বিশেষ পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এখন সারাদেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়। পাশাপাশি করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে ডাক্তার, প্যারামেডিকস, বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মনিটরিং সেল গঠনের সময় এসেছে। সব জেলায় এ সেলের শাখা অফিস থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সারাদেশে পর্যাপ্ত মাস্কসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি দেশের জনগণকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নোটিশে দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ দাতাকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে এ ব্যাপারে রিট করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চীনে মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে রোববার পর্যন্ত ৮১১ জন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৯৮ জনে।

 

আরও পড়ুন