করোনায় ৭০ ভাগ মানুষের আয় কমেছে, বেড়েছে ২ শতাংশের

২০১৯ সালের নভেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের নভেম্বরে জরিপকৃত চারটি জেলায় মজুরি বা বেতনভুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশের (৬৯.৭৬) আয় কমেছে। প্রায় ২৮ শতাংশের (২৭.৯৮) আয় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ২.২৬ শতাংশের আয় বেড়েছে। পেশা বদলে ফেলেছেন ৪.৫২ শতাংশ মানুষ।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘মহামারি এবং বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠী: চারটি নির্বাচিত জেলার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চারটি জেলা হলো বরগুনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী এবং কুড়িগ্রাম।

নিজ কর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের মধ্যে এই সময়কালে লাভ কমেছে ৮২ শতাংশের, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ শতাংশের এবং বেড়েছে ৩ শতাংশের। করোনার সময়ে ব্যবসা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হয়েছে ৩১ শতাংশের।

 

জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের সময় সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর করোনা মহামারির প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পেতে সানেম এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের চারটি জেলা—বরগুনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী এবং কুড়িগ্রামের ১৫৪১টি খানার ওপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরের ১৩ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। এই জরিপে তরুণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনি ইত্যাদির ওপর করোনা মহামারির প্রভাব নিরূপণের চেষ্টা করা হয়েছে।

জরিপে বলা হয়েছে, করোনার সময়ে অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কুড়িগ্রামে ৬২ শতাংশ, সাতক্ষীরাতে ৫৬ শতাংশ, রাজশাহীতে ৩৯ শতাংশ এবং বরগুনায় ৪৬ শতাংশ। গড়ে এই চারটি জেলার ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। এই চারটি জেলার ৫০ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি, অপরদিকে ৫৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। করোনাকালীন সময়ে এই চারটি জেলার ৫২ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না, অপরদিকে ৬৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। গড়ে এই চারটি জেলার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হলে নিয়মিত পড়াশুনায় ফিরবেন না অথবা এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে এমন মত দিয়েছেন এই চারটি জেলার ৩.৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী। ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে এই হার ৩.৫২ শতাংশ এবং মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪.০৩ শতাংশ। গ্রামে এই হার ৪.৪১ শতাংশ এবং শহরে ১.৬৫ শতাংশ।

 

 

আরও পড়ুন