কাচের গ্লাস, থালা-বাটিতে কতক্ষণ সজীব থাকে করোনাভাইরাস?

করোনাভাইরাসের তাণ্ডব যত বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এ নিয়ে গবেষণা। কী ভাবে এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা যায় বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষকে কেন নাক মুখ ঢেকে থাকতে বলা হচ্ছে বার বার! কেন বার বার ভালো করে হাত ধুতে বলা হচ্ছে? জানেন কোথায় কতক্ষণ সজীব থাকে করোনাভাইরাস? বাতাসে, প্লাস্টিক বা স্টিলের উপর এই ভাইরাস কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে জানেন? আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেয়া যাক…

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ‘নিউ জার্নাল অব মেডিসিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল যে, বাতাসে ভাইরাস কতক্ষণ সজীব থাকে এবং অন্য যেকোনো জায়গায় যেমন প্লাস্টিক বা স্টিলে এই ভাইরাস কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন, সার্স-কোভ-২ বাতাসে মাত্র তিন ঘণ্টা সজীব থাকে। যতক্ষণ এই ভাইরাস বাতাসে সজীব থাকে ততক্ষণ এরা দুর্বল থাকে। তাই সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই বাতাস থেকে এই ভাইরাস মাধ্যমে সংক্রমিত হবে না।

এছাড়াও এই গবেষণায় আরো দেখা গেছে, এই ভাইরাস স্টেইনলেস স্টিল বা প্লাস্টিকের উপর প্রায় তিন দিন পর্যন্ত সজীব থাকতে পারে। এমনকি কার্ডবোর্ডের উপরও প্রায় ২৪ ঘণ্টা সজীব থাকতে পারে এই ভাইরাস। আর তামার উপর প্রায় চার ঘণ্টা সজীব থাকে এই করোনাভাইরাস।

এই কারণে গবেষকরা সাধারণ মানুষকে এই ধরনের সমস্ত জিনিস দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যতটা সম্ভব হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

মার্কিন বিজ্ঞানীরা আরো জানিয়েছেন, সার্স কোভ-২ প্রায় সার্স কোভ-১-এর মতোই। ২০০৩ সালে এশিয়ার দেশগুলোতে সার্স কোভ-১ ছড়িয়ে পড়লেও সে রকমভাবে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা এখনো চলছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বা ধাতুর উপর এই ভাইরাস প্রায় দুই দিন থেকে ৯ দিন পর্যন্ত সজীব থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত এই মারণ ভাইরাসের কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। এ কারণে অন্যান্য রোগ প্রতিরোধক সহায়ক ওষুধ ও আগাম সাবধানতাই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর একমাত্র উপায়। সূত্র : জি নিউজ

আরও পড়ুন