কাশ্মীর নিয়ে ভারতের মুসলিম ক্রিকেটারের আবেগঘন টুইট

ভারত সরকার সোমবার সংবিধানের অধীন কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। ভারতের প্রদেশটির আর বিশেষ মর্যাদা রইল না। এতে উপত্যকাটিতে নতুন করে রক্তপাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এখন থেকে সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার শাসিত অঞ্চল হলো জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ। মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তে অনেকেই অসন্তুষ্ট।

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান জানিয়ে দিয়েছে, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের (আইওকে) বিষয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া অবৈধ পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে।

জানা যায়, ১৯৪৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলটিতে বড় বড় রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংঘাতে এখানে প্রায় ৭০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন। নতুন করে আবার সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাশ্মীরে যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে, তার ইঙ্গিতটা মিলছিল বেশ কয়েক দিন ধরেই। গত কয়েকদিন ধরেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপত্যকা ছাড়তে বলা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় অমরনাথ যাত্রা। উপত্যকা ছাড়ার নির্দশে দেওয়া হয় ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার তথা জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দলের মেন্টর ও ক্রিকেটার ইরফান পাঠানকেও।

রাজধানী শ্রীনগর থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়ার পরেই টুইট করেন ইরফান পাঠান। তিনি লিখেন, ‘আমার হৃদয় পড়ে রয়েছে কাশ্মীরে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কাশ্মীরি ভাই-বোনদের সঙ্গেই রয়েছে আমার হৃদয় ও মন।’ একইসঙ্গে টুইটে হ্যাশ ট্যাগ হিসেবে ইরফান লিখেন, #কাশ্মীর, #কাশ্মীরআন্ডারথ্রেট।

এই টুইটের পরেই বেশ কিছু ইউজারের রোষের মুখে পড়েন পাঠান। এক ইউজার ইরফানকে আক্রমণ করে লিখেন, ‘বড় বড় কথা বলে শেষে #কাশ্মীরআন্ডারথ্রেট লিখে নিজের জেহাদি মানসিকতাই বুঝিয়ে দিলেন ইরফান। কাশ্মীর ইজ নট আন্ডার থ্রেট। ইট ওয়াজ আন্ডার থ্রেট। এবারের স্বাধীনতা দিবসে কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৫ এবং ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া হবে।’

ভারতের এই প্রাক্তন অলরাউন্ডারকে কটাক্ষ করে লিখা সেই টুইটের পরে অবশ্য ওই ইউজারকেও অনেকে আক্রমণ করেন। ওই ইউজারের করা মন্তব্যের ভাষায় প্রতিবাদ করেন ইরফান।

পাঠান কড়া ভাষায় লিখেন, ‘অমরনাথ যাত্রীদের চলে যেতে বলা হয়েছে এবং যাত্রা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এর অর্থই হল, কাশ্মীরে আতঙ্কের পরিবেশ। সেই কারণেই নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। নিজের নোংরা চিন্তাভাবনা বদলান। প্রতিটি কথায় ধর্মকে টেনে আনবেন না। সব কথায় প্রমাণ চাইবেন না।’

You might also like