কীর্তনখোলায় যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে কার্গোর মুখোমুখি সংঘর্ষ

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে বরগুনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী শাহরুখ-২ লঞ্চের সঙ্গে ক্লিংকারবাহী কার্গোর মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এমভি হাজি মো. দুদু মিয়া নামের কার্গোটি ডুবে গেছে। কার্গোতে থাকা মাস্টার, সারেং, সুকানীসহ ১১ জন স্টাফ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশালের ডিসিঘাট সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এমভি শাহরুখ- ২ এর সামনের তলা ফেটে যায়। পরে নিরাপদে চরকাউয়া খেয়াঘাটে নেয়া হয় লঞ্চটি। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

যাত্রীদের বরাত দিয়ে বরিশাল সদর নৌ-থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, শনিবার বিকেলে প্রায় ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে বরগুনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে এমভি শাহরুখ-২ লঞ্চটি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ডিসিঘাট সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা হাজী দুদু মিয়া নামের ক্লিংকারবাহী কার্গোটির সঙ্গে লঞ্চটির সংঘর্ষ হয়। এতে কার্গোটি ডুবে যায়। কার্গোর মাস্টার, সারেং ও সুকানীসহ ১১ জন স্টাফ সাঁতরে তীরে ওঠেন।

অন্যদিকে সংঘর্ষে লঞ্চের সামনের দিকের তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। এ সময় লঞ্চের যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার ও হুড়োহুড়ি শুরু করে। পরে লঞ্চটি কোনোভাবে চালিয়ে চরকাউয়া খেয়াঘাটে নেয়া হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে আছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা শাখার উপ-পরিচালক ও বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করেন। পাশাপাশি লঞ্চটির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ওই কোম্পানির এমভি পূবালী-১ লঞ্চ ঘটনাস্থলে পাঠান তিনি। এমভি শাহরুখ-২ এর যাত্রীদের ওই লঞ্চে করে ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, লঞ্চ ও কার্গোর সংঘর্ষের ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে লঞ্চ বা কর্গো চালকের গাফিলতি ছিল কি-না তাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন