কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল থেকে ২ পর্যটকের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পৃথক আবাসিক হোটেল থেকে দুপুরে ও সন্ধ্যায় দুই পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই পর্যটক হলেন- সৌরভ জামিল সোহাগ (৪৭) ও মো. মানিক মিয়া (৪৫)।

সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আবাসিক হোটেল সাউথ বাংলা থেকে সোহাগের লাশটি উদ্ধার করে। তিনি খুলনার বাসিন্দা।

এর আগে বেলা দেড়টার সময় কুয়াকাটার আল্লাহর দান নামে অপর একটি আবাসিক হোটেল থেকে মানিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার বাসিন্দা।

মানিক ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তার মালিকানাধীন আল্লাহর দান নামে ট্রলারে করে ইলিশ মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্যবন্দর এলাকায় যান। মহিপুরের বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়তে তিনি ইলিশ মাছ বিক্রি করেন।

রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে ওঠেন মানিক। হোটেলটি কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। সকাল হলেও তিনি বের না হওয়ায় হোটেলের লোকজন তাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া পায়নি। পরে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে মানিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মৃতদেহটি কক্ষের ভেতরে খাটের পাশে পড়ে ছিল। লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে, মহিপুর থানা-পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে সৌরভ জামিল সোহাগ ও তার বন্ধু টুকু কুয়াকাটায় এসে হোটেলটির ১১২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। আজ বেলা ১১টার পর কক্ষটি বাইরে থেকে বন্ধ করা ছিল। হোটেল বয় শেষ বিকেলে কক্ষের সামনের বারান্দা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে সৌরভ জামিল সোহাগের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে রয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেয়। তবে টুকু ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, হোটেলের রেজিস্টারে সংক্ষেপে তাদের নাম সোহাগ ও টুকু এবং তাদের বাবার নাম লেখা রয়েছে। ঠিকানা লেখা রয়েছে ১৩৬, স্যার ইকবাল সড়ক, খুলনা। তবে পুলিশের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সৌরভ জামিল সোহাগের মূল ঠিকানা দৌলতপুর, আঞ্জুমান রোড, খুলনা।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল পুলিশ।

আরও পড়ুন