কুলি থেকে সুপারস্টার

ছোট বয়সে তিনি কুলি ও মিস্ত্রির পাশাপাশি বাস কন্ডাক্টর হিসাবে কাজ করতেন। সেখানেও তিনি ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। টিকেট বিক্রি করার সময় তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বিনোদন দিয়ে থাকতেন। ১৯৬৩ সালে বাস কন্ডাক্টরের চাকরি করার সময় কবি ও লেখক টপি মুনিয়াপ্পার পৌরাণিক কাহিনিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। সে সময়ই তিনি অভিনয়টা আরও ভালো করে শেখার জন্য মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন তার বন্ধুর সহযোগিতায়। বলছি তামিল সিনেমার কিংবদন্তি নায়ক রজনীকান্তের কথা।

রজনীকান্ত ভারতের মিসোর রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে একটি মারাঠি পরিবারে ১৯৫০ সালে ১২ ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন। রজনীকান্তের পূর্বপুরুষরা মাভদি কাদি পাথার নামে একটি গ্রাম থেকে আসেন, যা বর্তমানে মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার পুরান্দার তালুক নামের একটি স্থান। দুই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন রজনীকান্তের বাবা, রামজী রাও গায়েকোয়াাড একজন পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন।

মাদ্রাজ ফিল্ম ইউনিস্টিটিউটের বিভিন্ন অভিনয় কোর্স প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন সময়ে রজনীকান্ত স্টেজ নাটকে অভিনয় করতেন, ফলে তিনি তামিল চলচ্চিত্র পরিচালক কে.বলচান্দের নজর কাড়েন। পরিচালক তাকে তামিল ভাষা শিখতে পরামর্শ দেন এবং তিনি অতি দ্রুত সেই পরামর্শ অনুসরণ করেন।

কাজ ছেড়ে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তে বাড়ির লোকেদের একেবারেই সায় ছিল না। সে সময় তার আর এক কন্ডাক্টর বন্ধু তাকে ভরসা জুগিয়েছিলেন। তাকে আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন।

১৯৭৫ সালে রজনীকান্ত চলচ্চিত্রে তার অভিনয় শুরু করেন তামিল সিনেমা অপূর্ব রাগাঙ্গাল এর মাধ্যমে। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। একটার পর একটা ফিল্মের অফার পেতে শুরু করেন তিনি। ২০০৭ সালে ‘শিবাজি’ ছবিতে ২৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় পারিশ্রমিক নেয়া অভিনেতা হন তিনি। সে বছর পারিশ্রমিকে প্রথম ছিলেন জ্যাকি চ্যান।

আরও পড়ুন