ছাত্রদলের পদ নিতে লবিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বললেন ভিপি নুর (ভিডিও)

ছাত্রদলের পদ নিতে ডাকসু ভিপি তদবির করছেন বলে ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুরুল হক নুর।

রোববার দুপুরে ডাকসুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুর বলেছেন, এটি আসলে তাদের প্রোপাগান্ডা। এটি তারা শুরু থেকেই চালাচ্ছে। আমাদের জনপ্রিয়তায় তারা ইর্ষান্বিত হয়ে আগেই এ রকম প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ডাকসুর ভিপি এ পরিচয়ই অ্যানাফ (যথেষ্ট)। তিনি সাধারণ ছাত্রীদের প্রতিনিধি। ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের পরিচয় তার লাগবে না। আর এটি লাগেও না। ডাকসু ভিপি পরিচয় এটিই তার জন্য অ্যানাফ।

সাদ্দাম পুরোপুরি সুস্থ নেই। তিনি এখনও অসুস্থ। মানসিকভাবেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। তার ভালো ডাক্তার দেখানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন ভিপি।

এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, নুর নিজের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত আছেন। ক্যাম্পাসে খুব বেশি সময় দেন না। এ জন্য তাকে পাওয়া যায়নি। শুনেছি, তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ নেয়ার জন্য লবিং-তদবির করছেন। যেহেতু ছাত্রদল বিবাহিতদের সংগঠন, তাই নুরের সেখানে পদ নিতে আরও সুবিধা হবে।

ভিপি নুর বলেন, তারা বলেছে– জামায়াত-শিবির ও বিএনপির উসকানিতে আমরা আন্দোলন করি। আমরা কারও এজেন্ডা নিয়ে ডাকসুতে আসিনি। এগুলো তাদের অনেক আগে থেকেই অভিযোগ। এটিকে আমরা পাগলের প্রলাপ ছাড়া ভালো মানুষের কথা বলে আখ্যায়িত করছি না।

যারা এমন গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সমালোচনা করে নুর বলেন, তারা নিজেরাই নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। একজন ছাত্র প্রতিনিধি সাত বছর ফেল করে এখনও অনার্সের দরজা পার হতে পারেনি। সুতরাং তার মুখ থেকে নীতি কথা আশা করা যায় না। বেফাঁস কথাবার্তা তার মুখ থেকে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সাদ্দামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সে হয়তো অসুস্থ। সে হয়তো মানসিকভাবে নানা টেনশনে আছে। এখনও সুস্থ হতে পারেনি। এ জন্য নানা ধরনের বিভ্রাট কথা বলেছে। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে জানা যাবে, আসলে সে সুস্থ কিনা।

এ সময় একজন সাংবাদিক জানতে চান- ১৫ জানুয়ারির পর তোমরা আন্দোলনের যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছ? এই আন্দোলনটা আসলে কী ধরনের আন্দোলন?

জবাবে নুর বলেন, আমরা বলেছি– শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে সিট দিতে হবে। ছাত্রলীগের প্রশ্রয়ে প্রত্যেকটি হলে বহিরাগত ও অছাত্র আছে। তাদের হল থেকে উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা যদি এই পদক্ষেপ না নেয়, তা হলে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট দাবিতে এবং বহিরাগতদের হল বিতাড়নে আমরা আন্দোলনে যাব।

ছাত্রলীগের সমালোচনা করে নুর বলেন, তারা নানা সময় মুখরোচক কথাবার্তা বলে বেড়ায়। তারা বলে ক্যাম্পাসে গান হবে-প্রেম হবে। অথচ পহেলা বৈশাখের কনসার্টে তারা অগ্নিসংযোগ করে। আবার কখনও কখনও ছাত্রদের ওপর হাতুড়ি হেলমেট নিয়েও ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রলীগ।

আর সাদ্দাম হোসেন কী বলল না বলল তাতে ডাকসু ভিপি বা আমাদের কিছু যায় আসে না।’

সংবাদ সম্মেলনে এক নারী সাংবাদিক ভিপি নুরের কাছে জানতে চান, সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেছেন আপনি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কাজ করছেন; কিন্তু ডাকসুতে কোনো কাজই করছেন না। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

জবাবে নুর বলেন, দেখুন আজও আপনারা এসে দেখেছেন তারা যখন প্রেস কনফারেন্স করে তখন আমি আমার ডাকসুর রুমে ছিলাম। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে র্যালি ছিল, তাতে আমি জয়েন করেছি। আমাকে যেখানে ডাকা হয় আমি কিন্তু সেখানে যাই। যে প্রোগ্রামে আমাকে ইনভাইট করা হয় সেখানে আমি যাই।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটা দুর্বলতা হলো- তারা সব সময় একটা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভোগে। তারা ভাবে আমরা মনে হয় ছাত্রলীগের জায়গাটা নিয়ে নিয়েছি। সে কারণে তারা নানাভাবে চায়-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমাদের দূরে রাখতে। সে জন্য তারা একেক সময় একেকটা মিথ্যা গল্প গুজব প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, অভিযোগ দেয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে কবে আমি আন্দোলন করেছি, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের খোঁজ করার আহ্বান জানিয়ে ভিপি নুর বলেন, যে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসা করেন সে সুস্থ কিনা। তার কাছে জিজ্ঞাসা করুন কবে কোন তারিখে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করেছি। এগুলো আসলে পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছু নয়।

আরও পড়ুন