জাতিসংঘে মামলা রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশি’ প্রমাণের সুযোগ: মিয়ানমার

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীকে দেশটির সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জও মিন তুন জানান, গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলাটিকে ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখছে সেনাবাহিনী।

জও মিন তুন বলেন, ‘২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাখাইনের কোনো স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পুলিশ অথবা সেনাবাহিনীর দ্বারা এই সংকট সৃষ্টি হয়নি।’

রোহিঙ্গাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, সেখানে বসবাসকারী ‘বহিরাগতদের’ দ্বারা এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

শুরু থেকেই দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি করে আসছে।

এই সেনা মুখপাত্র বলেন, ‘এতদিন মিয়ানমারের এই ইস্যুটি আন্তর্জাতিকভাবে অবহেলিত ছিল। সেখানে শুধু বাংলাদেশের অবস্থানই আলোচিত ছিল। এখন মিয়ানমারের সুযোগ এসেছে এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতকে ব্যাখ্যা দেয়ার।’

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলায় সরকারকে পুরোপুরি সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী।

হেগে আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হবে। এতে মিয়ানমারের উপদেষ্টা অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন একটি দল দেশটির পক্ষে লড়বে।

দলটিতে সেনাবাহিনীর কোনো প্রতিনিধি থাকবে কীনা এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জও মিন তুন বলেন, ‘এটি সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।’

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ এনে ১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া।

বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে এই মামলা দায়ের করে আফ্রিকার দেশটি।

প্রসঙ্গত, গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুই দেশই ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এই কনভেনশন শুধু দেশগুলোতে গণহত্যা থেকে বিরত থাকা নয়; বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধের জন্য বিচার করতে বাধ্য করে।

আরও পড়ুন