দৌলতপুরে পানি বন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার

হাসিবুর রুবেল, কুষ্টিয়া:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হচ্ছে
নতুন নতুন এলাকা ও গ্রাম। গত দু’দিনে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ১৫০০ হেক্টর জমির মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল। অসময়ের এ আকষ্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি পানিবন্দী হয়ে পড়লেও এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দুই একদিনের মধ্যে আরও কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর ধারণা। তাই চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন নদী তীরবর্তী চরবাসী।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, প্রতি বছর পদ্মা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি
পেলেও মাসকলাই চাষের আগেই পানি নেমে যায়। তখন কৃষকরা চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে মাস কলাইয়ের চাষ করে থাকেন এবং সারা বছরের আর্থিক চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর তেমন বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ভাবে মাসকলাই চাষ করেছিলেন। সে নিজেও ১৫বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করেছিলেন যা এখন জলমগ্ন। দেরীতে বন্যা হওয়ার কারনে সব কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ৩হাজার কৃষকের চাষকরা মাসকলাই পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের অধিকাংশ ঘর-বাড়ি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখে পড়েছেন তারা। তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানান। চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, আকষ্মিক বন্যায় তার ইউনিয়নের চরের জমিতে চাষ করা প্রায় সব কৃষকের মাসকলাই ও আমন ধান তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গত দু’দিনে শতাধিক ঘর-বাড়িও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে দৌলতপুরে ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও লক্ষ্যমাত্রার সিংহ ভাগ মাসকলাই চাষ হয় চরাঞ্চলের চার ইউনিয়নে। গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে চরের জমিতে চাষকরা মাসকলাই তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১২১০ হেক্টর জমির মাসকলাই পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলেও তিনি জানান। এদিকে দৌলতপুর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজগর আলী রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থকৃষক ও পানিবন্দী পরিবারদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কবে এখন পর্যন্ত পানিবন্দী অসহায় মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক কোন সহযোগিতা পাননি বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন