নরসিংদীতে ফুটপাতে বিক্রি হওয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে প্রশ্ন

এম,লুৎফর রহমান,নরসিংদী প্রতিনিধি ঃ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশী ব্যাবহার হচ্ছে লিক্যুইড হ্যান্ডস্যানিটাইজার বা হাতজীবানুনাশক। নসিংদীতে কোন ফার্মেসি বা ঔষধের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী গুলোর তৈরি জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সংকট সৃষ্টি হয়েছে হ্যান্ড রাব হ্যাক্সিসলসহ জীবাণুনাশক সকল ধরনের তরল পদার্থের। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নরসিংদীর পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজারের গায়ে কোন কোম্পানী বা কীভাবে কোথায় এসব তৈরি হয়েছে তা উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) নরসিংদীর ভেলানগর, উপজেলা মোড়, বাসস্ট্যান্ড, সাটিরপাড়া সদর হাসপাতাল গেইট ও জেলা হাসপাতাল গেইটসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশির ভাগ ফার্মেসিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। দুই একটি দোকানে মিললেও দাম নিচ্ছে ৫/৬ গুণ বেশি। আর ক্যামিকেলের দোকান গুলোতে চড়া দামেও মিলছে না হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উপকরণ। আর এই সুযোগকে পুঁজি করে এক শ্রেণিরর অসাধু ব্যাবসায়ী শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও রাস্তার পাশে দোকান সাজিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হ্যান্ডস্যানিটাইজার। এসব জীবাণুনাশক আসল না নকল তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

এসব জীবাণুনাশকের বোতলের গায়ে করোনাভাইরাসের ছবি সম্বলিত ষ্টিকার লাগানো থাকলেও নেই কোন কোম্পানীর নাম। গোলাপী এবং সাদা রং মিশ্রিত এসব লিক্যুইড হ্যান্ড স্যানিটাইজার জীবানুমুক্ত করতে কতটুকু কার্যকরী তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। নরসিংদী কলেজের শিক্ষার্থী হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলের ফার্মেসি, ওষুধের দোকান গুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শহরে রাস্তার পাশে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে লিক্যুইড হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
এসব বোতলের গায়ে নেই কোন কোম্পানীর নাম। এ বিষয়ে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, এটা আমার জানা নাই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি এখনই পুলিশ প্রশাসনকে জানাচ্ছি। এদিকে সরবরাহ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন নরসিংদীর ফার্মেসীর মালিলকগণ। দেশে করোনাভাইরাস আতঙ্কে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানী গুলো প্রয়োজন অনুয়ায়ী সরবরাহ করতে পারছে না বলে জানান ওষধ ব্যবসায়ীরা। প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়া এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার কতটুকু নিরাপদ প্রশ্ন রয়েছে জনমনে?
আরও পড়ুন