নিহতদের পরিবার পেয়েছে কোটি টাকা

এ বছর শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ জন শ্রমিকের পরিবারকে ছয় লাখ করে মোট এক কোটি ১৪ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহা-পরিদর্শকের কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটার বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, শীপ ব্রেকিং একটি ঝুঁকিপূর্ণ খাত। শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে কাজ করেন। সরকার শীপ ব্রেকিংসহ সকল খাতের মালিক-শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।

তিনি বলেন, শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শকরা নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং শ্রমিকদের সচেতন করছেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরির্শক শিবনাথ রায় জানান, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর মৃত শ্রমিকের পক্ষে শ্রম আদালতে মামলা করে শ্রম আইন ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটির সাথে মালিক পক্ষের আলোচনায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক চার লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা মালিকরা প্রদান করেছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মোঃ আল-আমিন এর নেতৃত্বে শ্রম পরিদর্শকগণ নিয়মিত মনিটরিং করে থাকেন। এ বছর শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে অগ্নিকান্ড, লোহার প্লেট, লোহার পর্দা পড়ে, পিছলে পড়ে এবং বিষাক্ত গ্যাসে এ সকল শ্রমিক মারা যান। গত ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ৩ জন, জুলাই মাসে ৫ জন, আগষ্ট মাসে ২ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৩ জন, অক্টোবর মাসে ৩ জন এবং নভেম্বর মাসে ২ জন শ্রমিক মৃত্যু বরণ করেন। শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ২০১৮ সালে ১৭ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা যান। এ সকল দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের মৃত্যুতে মালিকদের নিকট থেকে ৫ লাখ করে মোট ৮৫ লাখ টাকা সহায়তা আদায় করে দেয়া হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে এ খাতে ১৬ জন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জন শ্রমিকদের পরিবারকে ৮০ লাখ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা আদায় করে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন