প্রতি বছর ছয় লাখ মানুষ যুক্ত হচ্ছে ঢাকা শহরে

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিন গ্রাম ছেড়ে নগরে আসতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে ঢাকা শহরে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আলোচকরা মনে করেন। একই সঙ্গে নগরের গৃহহীদের আবাসন সংকট সমাধান হওয়া জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন, নগর দরিদ্র্রের আবাসন :নগর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ বক্তারা এসব কথা বলেন।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), বারসিক এবং কোয়ালিশন ফর দ্যা পুওর (কাপ) এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে।

নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, নগর দরিদ্রদের আবাসন সংকট বাড়ছে দিনে দিনে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সবার আগে নগরের নিম্ন আয়ের মানুষদের আবাসন সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। বস্তিবাসীরা যাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক কিস্তিতে আবাসনের মালিক হতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে’।

মেয়র বলেন, যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ নগর গড়তে চাই। আমার শপথের পর আমি আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে কাজ করতে চাই।

বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শহীদুল আমিন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১৭০০ মানুষ ঢাকায় আসে এবং হিসাব করে দেখা গিয়েছে প্রতি বছরে প্রায় ৬ লাখ মানুষ ঢাকা শহরে নতুন করে যুক্ত হয়।

তিনি বলেন, নগরের মোট জনসংখ্যার মধ্যে দরিদ্র ৩৫ ভাগ, অতি দরিদ্র ১০ ভাগ, যাদের আয় ৭ হাজার টাকার নিচে।

বিশেষ অতিথি নগর গবেষণা কেন্দ্র (সিইউএস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধারণা করা হচ্ছে ৩০ বছরের মধ্যে দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। ফলে দুই থেকে তিন কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে উঁচু এলাকায় চলে আসবে। এটা আমাদের দেশের জন্য চিন্তার বিষয়। সুতরাং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিবেচনায় রেখে নগর পরিকল্পনা করা দরকার।

মূল প্রবন্ধে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানাবিধ প্রাকৃতিক আপদ বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, শৈতপ্রবাহ, লবণাক্ততার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদ নির্ভর গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে শহরে ভিড় করছে। ফলে সহজলভ্যতার কারণে তাদের অধিকাংশেরই জায়গা হচ্ছে শহরের অপরিকল্পিত এবং অপরিচ্ছন্ন বস্তিতে ও ফুটপাতের খোলা জায়গায়। তাছাড়াও গ্রাম এবং শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য তাদেরকে শহরে আসতে বাধ্য করছে। ফলে দ্রুত বাড়ছে ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব এবং শহর হারাচ্ছে বাসযোগ্যতা। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়াছে কিন্তু দেশের সকল মানুষ এই সুফল সমানভাবে পাচ্ছেন না।

বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থের সঞ্চালনায় নাগরিক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন বুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের সাবেক ডিন, প্রফেসর রোকসানা হাফিজ, কাপের চেয়ারপারসন ডা. দিবালোক সিংহ, কাপের নির্বাহী পরিচালক, খোন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত, ঢাকা ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার এনামুল হক আবুল, আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হালদার, ইডিপির নির্বাহী পরিচালক কাজী বেবি, নাসফের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলী প্রমুখ।

আরও পড়ুন