ফখরুদ্দীন সামনে এলেও নিভৃতে মঈন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন অত্যন্ত আলোচিত দুটি নাম। কারণ তাঁদের নেতৃত্বেই সংঘটিত হয়েছিল এক-এগারোর সেই আলোচিত ঘটনা। ফলে ১৪ বছর পার হলেও দেশের রাজনীতিতে এখনো তাঁদের নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। নেপথ্যের সেই নায়করা কোথায় আছেন? কেমন আছেন? জানার আগ্রহ সবার।

যুক্তরাষ্ট্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফখরুদ্দীন আহমদ মেরিল্যান্ড স্টেটের বেথেসডায় নিজের বাড়িতে অবসর জীবন যাপন করছেন। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী নীনা আহমদ। কিছুদিন আগে তাঁর ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’ হয়েছে।

আর সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ ফ্লোরিডার পামবিচে থাকেন। কয়েক বছর আগে তাঁর ‘মাল্টিপল মাইলোনা’ ক্যান্সার ধরা পড়লেও এখন তিনি সুস্থ আছেন। চিকিৎসার জন্য আগে ঘন ঘন নিউ ইয়র্কে যাতায়াত করলেও এখন কম যান। অবসরে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ওপর একটি বই লিখছেন বলে জানা গেছে। মঈন উর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেও থাকেন। একমাত্র ছেলে স্কলারশিপ নিয়ে মায়ামির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, এক-এগারোর পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদকে মাঝেমধ্যে সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও মঈনুদ্দিন সেসব কিছুটা এড়িয়ে চলেন। পামবিচ থেকে মাঝেমধ্যে নিউ ইয়র্কে তিনি ভাই সালাউদ্দিন আহমেদের লং আইল্যান্ডের বাসায় যান। তবে পারতপক্ষে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে আসেন না বলে প্রবাসীরা জানিয়েছেন।

কয়েক বছর আগে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে একটি মসজিদে বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন মঈনুদ্দিন। এক-এগারোতে মূলত বিএনপি সমর্থক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। যে কারণে দলটির নেতাকর্মীরা ওই সরকারের ওপর বেশি ক্ষুব্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে কর্মরত সাংবাদিকরা জানান, ওই ঘটনার পর মঈন উ বেশির ভাগ সময় অন্তরালেই থাকার চেষ্টা করেন। এমনকি তাঁর স্বাস্থ্যবীমাও ট্রান্সফার করে ফ্লোরিডায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সংঘটিত রাজনৈতিক পরিবর্তন ‘এক-এগারো’ নামে প্রচার লাভ করে। এ বছরের ১১ জানুয়ারি ঘটনাবহুল সেই দিনটির ১৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেনাবাহিনীর সমর্থনে ওই সময় গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। তবে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে ছিলেন তৎস্যলীন সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ।

ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ক্ষমতার পালাবদলের পর ফখরুদ্দীন আহমদ বেশ কিছুদিন সরকারি নিরাপত্তায় দেশে ছিলেন। কিন্তু এরপর এক-এগারোর কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে গঠিত সংসদীয় কমিটি ফখরুদ্দীনকে জেরার জন্য তলব করছে মর্মে খবর প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক ফখরুদ্দীন মেরিল্যান্ডে দুটি বাড়ির মালিক। বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে এখনো তিনি পেনশন ভোগ করেন। কয়েক বছর আগে তাঁর বড় ছেলে আত্মহত্যা করেন।

বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ফখরুদ্দীনকে প্রায়ই দেখা যায়। কিছুদিন আগে ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক সরকার কবীরের ছেলের জানাজায় ফখরুদ্দীনকে অংশ নিতে দেখেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। অবশ্য সেখানে বেশ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করলে জানাজা শেষ হলে দ্রুত তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। বিভিন্ন সময় তাঁকে বাজার ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে দেখা যায় বলেও জানান তাঁরা। গত বছর ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশিদের আয়োজিত একটি বইমেলায় তাঁকে দেখা গেছে। ফখরুদ্দীনের অর্থনীতিবিদ ছেলে করপোরেট অফিসে চাকরি করেন বলে তাঁর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

এদিকে অবসর নিয়ে ২০০৯ সালের জুন মাসে অনেকটা নীরবে দেশ ছেড়ে চলে যান মঈন উ আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একবার তিনি সৌদি আরবে হজ করতে গিয়েছিলেন। গত বছর তাঁকে অবশ্য কলকাতায় দেখা গেছে।

এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন এখন কাতারে রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক এই পরিচালক সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে সন্ত্রাসবিরোধী একটি ইউনিটে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। আরেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী আগে যুক্তরাষ্ট্রে পিত্জার দোকানে কাজ করলেও এখন নিজের গাড়ির মাধ্যমে হাসপাতালে জরুরি ওষুধ সরবরাহের কাজ নিয়েছেন। সূত্র: কালের কন্ঠ।

 

 

আরও পড়ুন