বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার সাহসী ১০ সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানের সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছে। জনগণের মধ্যে স্বস্তি এসেছে এবং জনগণের মধ্যে আশাবাদ জাগ্রত হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, শেখ হাসিনা যে জনগণের জন্য কাজ করেন। শেখ হাসিনা যে জনবান্ধব তা তিনি আরেকবার প্রমাণ করলেন। শেখ হাসিনা যে সবার আগে দেশ এবং জনগণের কথা চিন্তা করেন আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে সেটা স্পষ্ট হলো। সাধারণ মানুষ এটাও মনে করছে যে, ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়া, যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা, ক্যাসিনো বন্ধ করা শেখ হাসিনাার এই সময়ের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। আসুন দেখে নেওয়া যাক শেখ হাসিনার সেরা ১০টি সাহসী সিদ্ধান্ত:

১. স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ১৯৮১ সালে যখন জিয়াউর রহমানের স্বৈরশাসন চলছে, দেশে আসলেই তার প্রাণ নাশের আশঙ্কা রয়েছে। তখন নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। অবশ্যই তার জীবনের সেরা দশটি সিদ্ধান্তের অন্যতম তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

২. নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা: ৯১ থেকে ৯৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির ভোট কারচুপি এবং ভোটের অধিকার হরনের প্রতিবাদে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা। এই রূপরেখায় একজন অরাজনৈতিক নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সরকার প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজনীতির বাইরে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে সরকার প্রধান করা ছিল শেখ হাসিনার আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

৩. বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার সংশ্লিষ্টতা: শেখ হাসিনাই প্রথম নেত্রী যিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রথম উথ্থাপন করেছিলেন। সেই সময় আওয়ামী লীগের মধ্য থেকেও এর প্রতিবাদ উঠেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটা প্রমাণিত হয়েছিল, শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত ছিল সাহসী সিদ্ধান্ত। বিএনপি যে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দল সেটা প্রমাণ করার জন্য এই সিদ্ধান্তের কোন বিকল্প ছিল না।

৪. প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার: ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে শেখ হাসিনা ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন না করে তিনি প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বেছে নেন। এই প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ। কিন্তু তারপরও দেশে আইনের শাসন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রচলিত আইনের দীর্ঘ পথ বেছে নিয়েছিলেন। এটা ছিল তাঁর আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত।

৫. ওয়ান ইলেভেনের বিরুদ্ধে প্রথম অবস্থান গ্রহণ করা: যখন ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেনা সমর্থিত ওয়ান ইলেভেন আসে, নতুন নির্বাচনের পরিবর্তে তারা বিভিন্ন সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করতে শুরু করে। শেখ হাসিনাই প্রথম রাজনীতিবিদ যিনি তখন প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তিনি অনতিবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং তা না হলে ওয়ান ইলেভেন সরকার জগদ্দল পাথরের মত চেপে থাকত এবং আরেকবার জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা হত।

৬. ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে চুক্তি করেছিলেন সে চুক্তির বাস্তবায়ন করতে পারেননি কোন সরকারই। ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিরোধগুলোর মিটানোর উদ্যোগ নেন। এরমধ্যে ছিটমহল বিনিময় ছিল অন্যতম। ছিটমহল বিনিময় নিয়ে অনেকরকম ঝুঁকি ছিল এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আশঙ্কা ছিল। কিন্তু ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। এটি শেখ হাসিনার অন্যতম একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল।

৭. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: স্বাধীনতার চার দশক পরে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলংকমুক্ত করছেন। আর এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে এসেছে নানা চাপ। কিন্তু তিনি পিছু হাঁটেননি। ক্ষমতাবান বলে তাকে ছাড় দেননি। তার সাহসীকতার জন্যই বাংলার মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখতে পেরেছে।

৮. ২০১৪ র নির্বাচন: ২০১৩তে বিএনপি যখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় এবং এরশাদও নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারপরও সাংগঠনিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন অব্যাহত রাখা ছিল শেখ হাসিনার অন্যতম সেরা একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সন্ত্রাস, হরতাল, অবরোধসহ নাশকতামূলক সমস্ত তৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

৯. রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দান: ২০১৭ সালে তিনি যখন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন সেটা ছিল তাঁর একটি যুগান্তকারী সাহসী সিদ্ধান্ত। শুধু বাংলাদেশ নয় সারাবিশ্বে একটি মানবিক সিদ্ধান্ত হিসেবে আজও স্বীকৃত। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়কে যখন বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে, যখন বাংলাদেশ তাঁর অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেকসই এববং স্থায়ী করার সংগ্রাম করছে তখন ১১ লক্ষ লোকের চাপ নেওয়ার সাহস কজন নেতার থাকে? কজন রাষ্ট্রনায়কের থাকে? সে প্রশ্ন বিশ্বমহলে উত্থাপিত হয়েছিল।

১০. আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান: টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের ভেতরে যেন সুবিধাবাদীরা গাটছাড়া না বাঁধে, সুবিধাবাদীদের স্বেচ্ছাচারিতায় যেন উন্নয়নের ফসল নষ্ট না হয় সেজন্য তিনি দলের উপর দেশকে স্থান দিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। সারদেশের মানুষ এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এটা শেখ হাসিনার আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন