বাংলাদেশের জয় দিয়ে শুরু, হারে শেষ

ইডেনের ঐতিহাসিক গোলাপি বলের টেস্টের তৃতীয় দিনে ইনিংসসহ ৪৬ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৪৩ রান যোগ করতেই তিন উইকেট হারায় টাইগাররা। আর এতেই দুই টেস্ট সিরিজ হেরে হোয়াইওয়াশের স্বাদ পেল ইমরুল-মুমিনুলরা। দুই টেস্টেই ইনিংস ও তিন দিনের ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে ২৪১ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৫ রানেই অলআউট হয় টাইগাররা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন মুশফিক।

দ্বিতীয় ইনিংস ২৪১ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ডাক মারলেন মুমিনুল। প্রথম ইনিংসে ৭ বল মোকাবেলা করে শূন্যরানে আউট হয়েছিলেন। এবার ৬ বল মোকাবেলা করে শূন্যরানে আউট হলেন। দলীয় ২ রানের মাথায় ইশান্ত শর্মার বলে উইকেটের পেছনে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক। এর আগে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছেন সাদমান। দ্বিতীয় ইনিংসের পঞ্চম বলেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ইশান্ত শর্মার বলে আউট হয়ে ফিরে গেছেন সাদমান ইসলাম।

প্রথম টেস্টের ব্যর্থ ইমরুল কায়েস এ ম্যাচেও ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করলেন। ইডেন টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাঁ-হাতি ওপেনার মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরেন ৫ রানে। পুরো সিরিজের ৪ ইনিংস মিলে ইমরুল কায়েসের রান ২১ রান।

দুই উইকেট হারিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। আর বিরতি থেকে ফিরেই উমেষ যাদবের বলে আউট হয়ে ফিরে যান মোহাম্মদ মিথুন। এর আগে নামের পাশে যোগ করেন মাত্র ৬ রান। দলীয় ৮২ রানে বাংলাদেশ পেল আরেকটি দুঃসংবাদ। এবার কোনো উইকেট নয়, তবে উইকেট ছাড়তে বাধ্য হলেন ব্যাটসম্যান। হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়লেন মাহমুদউল্লাহ।

উমেশ যাদবের বলে সিঙ্গেল নিতে ছুটছিলেন মাহমুদউল্লাহ। রান পূর্ণ করার আগ মুহূর্তে হয়তো লাগে টান, হাত দিয়ে চেপে ধরেন ডান হ্যামস্ট্রিং। ফিজিও এসে পরীক্ষা করে দেখেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং করার অবস্থায় নেই। মাঠ ছাড়লেন আস্তে আস্তে। ৭ চারে ৪১ বলে ৩৯ করে অবসর নিলেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ ইনিংসের সেটি ১৯তম ওভার।

ইনজুরিতে পড়ে রিয়াদ মাঠের বাইরে চলে গেলে মাঠে আসেন মিরাজ। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি গড়েন ৩৯ রানের। এরপর ইশান্ত শর্মার চতুর্থ শিকার হয়ে মাত্র ১১ রানেই ফিরে যেতে হয় মিরাজকে। মিরাজ যখন ফেরেন তখন বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ছিল ১৩৩ রান। মিরাজের আউটের পর উইকেটে আসেন লিটন দাসের বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া তাইজুল ইসলাম। টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংসের ৩২তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্যক্তিগত ১১ এবং দলীয় ১৫২ রানে উমেষ যাদবের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তাইজুল। তখনও টাইগাররা পিছিয়ে ৮৯ রানে।

তৃতীয় দিন হাতে ৪ উইকেট রেখে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকের ব্যাটে ইনিংস পরাজয় এড়ানোই মূল লক্ষ্য ছিল সফরকারীদের। কিন্তু কলকাতা টেস্টের তৃতীয় দিনে সকালে ৪৭ মিনিটেই গুটিয়ে গেছে দলটি। হেরেছে ইনিংস ও ৪৬ রানে।

হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগে আগের দিন মাঠ ছেড়ে যাওয়া মাহমুদউল্লাহর দেখা মিলল না। মুশফিকের সঙ্গে দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামলেন ইবাদত হোসেন। অনুমিতভাবেই ইবাদত হোসেন টিকতে পারলেন না বেশিক্ষণ। শূন্য রানে বিদায় ইবাদতের। অন্য প্রান্তে ভরসার মত কেউ না থাকায় আগ্রাসী খেলার চেষ্টা করছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেই চেষ্টাতেই তার পথচলার সমাপ্তি। বিদায় নিলেন উমেশ যাদবের বল উড়য়ে মারতে গিয়ে। মুশফিকের টাইমিং হয়নি ঠিকমতো। কাভারে ক্যাচ নেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৯৬ বলে ৭৪ রান করে শেষ হলো মুশফিকের ইনিংস।

এরপর ইনিংসসহ হারটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। অভিজ্ঞ মুশি ফিরে যাওয়ার পর ১১ রান যোগ করার পর উমেষ যাদবের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন আল-আমিন হোসেন। আর ইনজুরিতে পড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর ব্যাট করতে না পারলে ইনিংসসহ ৪৬ রানের হার বরণ করতে হয় টাইগারদের। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ৫ উইকেট তুলে নেন উমেষ যাদব আর ৪ উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা।

আরও পড়ুন