বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাশ্মীরি যুবকদের তুলে নেয়া হচ্ছে

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর থেকে টানা দুই সপ্তাহে চরম উত্তেজনার মধ্যে শত শত যুবককে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাশ্মীরি রাজনীতিবিদ শেহলা রশিদ দিল্লিতে একের পর এক টুইট করে বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রাতে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে তরুণ ও যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করছে, খাবার ফেলে দিচ্ছে বা চালের বস্তায় তেল ঢেলে দিচ্ছে এবং শেষে যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, সোপিয়ানের একটি আর্মি ক্যাম্পে চার যুবককে ধরে নিয়ে গিয়ে জেরা ও নির্যাতন করার সময় তাদের সামনে মাইক্রোফোন ধরে রাখা হয়েছিল, যাতে তাদের চিৎকারের আওয়াজ শুনে গোটা এলাকা ভয় পায়। তবে শেহলা রশিদের এই দাবিকে ভারতের সামরিক বাহিনীর সূত্র ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে কাশ্মীরে কমপক্ষে চার হাজার লোককে বন্দি করা হয়েছে বলে দেশটির সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এদিকে টুইটার বার্তায় শেহলা রশিদের অভিযোগকে মিথ্যা রটনা বলে দাবি করে সুপ্রিমকোর্টে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছেন আইনজীবী অলক শ্রীবাস্তব। তিনি প্রশ্ন তুলছেন, ওইসব কথিত নির্যাতনের অডিও বা ভিডিও কোথায়; কিংবা নির্যাতিতদের নাম, পরিচয় বা ঘটনা কোথায় ঘটেছে সেগুলোইবা কেন তিনি জানাতে পারছেন না?

তবে ঘটনা যা-ই হোক, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে সেখানে এখন পর্যন্ত কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে সরকার এখনো মুখ খোলেনি। সরকারি মুখপাত্র নির্দিষ্টভাবে কোনো সংখ্যা জানাতে অস্বীকার করলেও এএফপি কাশ্মীরের এক ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধৃত করে বলছে, আটকের সংখ্যা চার হাজারের কম হবে না।

প্রসঙ্গত, জম্মু ও কাশ্মীরে গত সোমবার থেকে আবার স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই খোলেনি। কোনো কোনো স্কুল খুললেও নিরাপত্তা আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা আসেনি। শ্রীনগর থেকে বিবিসির সাংবাদিক জানান, স্কুল খোলার ঘোষণা হলেও শহরে তা কার্যকর করা হয়নি। প্রথমে ঠিক হয়েছিল ক্লাস এইট পর্যন্ত বাচ্চারা স্কুলে আসবে, পরে সেটাকে শুধু ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে কারফিউর ভেতর অভিভাবকরা শেষ পর্যন্ত সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ঝুঁকি নেননি।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। সেখানে আটকের ঘটনা তো শুধু গত দুসপ্তাহে নয়, তার বহু আগে থেকেই হচ্ছে। ইয়াসিন মালিক কিংবা হুরিয়াতের আরও বহু নেতাকে অনেক দিন ধরেই আটকে রাখা হয়েছে। সরকার যদিও বলছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা খুব অল্প কিছু লোককে আটক করেছে; কিন্তু আমরা বলব আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তারা এখানে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। আমরা এ নিয়ে শিগগির বিবৃতি দেব।

তিনি আরও বলেন, এসব ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতার সঙ্গে আটককৃতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা, যাতে পরিবারের লোকজন জানতে পারে তারা কোথায়। তাদের আইনি সহায়তাও দেওয়া দরকার। আটকের মেয়াদ যাতে অনির্দিষ্টকাল না হয় সেটা যেমন দেখা দরকার, তেমনি আটক ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত কিনা, সেটাও জাস্টিফাই করতে হয়। কিন্তু কাশ্মীরে ভারত সরকার কোনোটাই এখনো করেনি।

আরও পড়ুন