বুয়েটে আন্দোলনের সমাপ্তি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। সহপাঠী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রায় দুই মাস পর তুলে নেয়া হলো।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সব দাবি পূরণ হওয়ায় আন্দোলনের সমাপ্তি টানার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বুয়েট কর্তৃক্ষকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বুয়েটের ২০১৫ ব্যাচের ছাত্র মাহবুবুর রহমান সায়েম লিখিত বিবৃতিতে এসব জানান।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই আমাদের দেওয়া তিনটি পয়েট মেনে নেওয়ায় আমরা বুয়েট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের দেওয়া রায় মেনে নিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি টানছি। আমরা আশা করি, বুয়েট প্রশাসন আবরারের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যাপারেও সচেষ্ট হবে।

সায়েম জানান, উপাচার্যের উপস্থিতিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার এবং সব অনুষদের ডিনদের সঙ্গে বৈঠকে ২৮ ডিসেম্বর থেকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা।

৬ অক্টোবর বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর থেকে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয়।

সর্বশেষ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।

গত বুধবার বুয়েটের উপাচার্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তিন দফা দাবি পূরণ হলে ২৮ ডিসেম্বর থেকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা দিতে তারা প্রস্তুত।

শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে আবরার হত্যায় অভিযুক্ত ২১ শিক্ষার্থীসহ মোট ২৬ জনকে বুয়েট থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এরপর র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দুইটি হলের আরও ২৬ জন ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সোমবার রাতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বুয়েট প্রশাসন জানিয়েছে, র‍্যাগিং ও সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত থাকলে বহিষ্ককারসহ বিভিন্ন রকমের শাস্তি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন