মন্ত্রীকে ৫ কোটির গাড়ি দিয়েছিলেন শামীম; সেতুমন্ত্রী বললেন ছাড় নয়!

আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীকে পাঁচ কোটি টাকা দামের মার্সিডিজ গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন জি কে শামীম। গোয়েন্দাদের জেরার মুখে জি কে শামীম তার গডফাদার, কারা তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে এবং টেন্ডার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য কী কী করেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, জি কে শামীমের দেওয়া সমস্ত তথ্যই যে বিশ্বাস যোগ্য এমনটি নয়। এসব তথ্য যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে যে, ২০১৪ সালে গঠিত মন্ত্রিসভার সাবেক একজন মন্ত্রীর কাছে সুবিধা আদায়ের জন্য তাকে একটি ই-সিরিজের মার্সিডিজ বেঞ্চ গাড়ি দিয়েছিলেন জি কে শামীম। সেই গাড়িটির বাজার মূল্য ছিল পাঁচ কোটি টাকা। শুধু সাবেক মন্ত্রী নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রকল্প প্রধানদেরকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া, অর্থপ্রদান করা ইত্যাদি ছিল তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। জি কে শামীমের ঘুষের জালে আটকে পড়েনি এমন সরকারী কর্মকর্তার সংখ্যা খুবই কম।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, শুদ্ধি অভিযান চলছে চলবে

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শুদ্ধি অভিযান চলছে চলবে। যতদিন সন্ত্রাস, মাদক আর দুর্নীতি বন্ধ না হবে ততদিন এই অভিযান চলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার প্রাক্কালে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। যতবড় গডফাদারই হোক, কোনও ছাড় দেয়া হবে না। আপস হবে না। ওবায়দুল কাদের দাবি করেন এ অভিযানে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের চলমান শুদ্ধি অভিযান ও সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মাত্র শুদ্ধি অভিযান শুরু হলো। যতদিন পর্যন্ত দেশ থেকে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন শেষ না হবে, ততদিন পর্যন্ত চলতেই থাকবে। এই অভিযান শুধু রাজধানীতেই নয়, সারাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হবে। এরই মধ্যে জেলা শহরগুলোতে শুরু হয়েছে। অনেক অপরাধী গা-ঢাকা দিয়েছে, তবে তাদের খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। তারা পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতাদের উচিত ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানানো, ধন্যবাদ জানানো। কিন্তু তা না করে তারা এটা নিয়ে সমালোচনা করছে। সমালোচনার কারণ হচ্ছে এই অভিযানে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে, তাই এটা তাদের গাত্রদাহ হয়েছে।
এতোদিন এসব বিষয় পুলিশ কেন অন্ধকারে ছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা পথ দেখান। কই আপনারাতো লেখননি। মিডিয়াকে স্বীকার করতে হবে ক্যাসিনো নিয়ে কোনও প্রতিবেদন আপনারা করেন নি।

আরও পড়ুন