মার্কেটে সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই

লকডাউন শিথিল করে শর্তসাপেক্ষে মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। গত রবিবার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেট খুলেছে। যদিও মালিকদের সিদ্ধান্তে বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ অনেকগুলো বড়ো মার্কেট খোলেনি। কিন্তু যেগুলো খুলেছে সেগুলোতে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। সাধারণ দোকানপাটেও মানুষ একে অন্যের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে কেনাকাটা করছেন। রাস্তাঘাট সবখানেই সামাজিক দূরত্বের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। অথচ দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকরা প্রতিনিয়তই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে তাগিদ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, আমরা এখনো সংক্রমণের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছায়নি। এই মাসের বাকি সময়টা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ সোমবার খোলার একদিন পরই রাজধানীর বঙ্গবাজার কাঁচা মার্কেট বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ধানমন্ডির দুটি ফ্যাশন হাউজের আউটলেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে রবিবার এআরএ সেন্টার ও এডিসি ইমপায়ার নামে দুটি মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুরোনো ঢাকার ইসলামপুরেও কাপড়ের আড়তগুলোতে কোনো ধরনের বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সরু গলির মধ্যে মানুষের চলাচল। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও কেউ মানছেন না। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষ সচেতন না হলে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, সারাদেশেই একই ধরনের অবস্থা।

করোনা মহামারির মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটা মানার মতো পরিস্থিতি নেই বঙ্গবাজার মার্কেটে। সে কারণে রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেট ও আরো ধানমন্ডির দুটি ফ্যাশন আউটলেট বন্ধ করে দেয় পুলিশের রমনা বিভাগ। গতকাল রমনা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সরকার শর্তসাপেক্ষে মার্কেট খোলার নির্দেশনা দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খুললে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু গুলিস্তান বঙ্গবাজার কাঁচা মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মানার মতো পরিস্থিতি নেই। সেখানে সরু পথ। স্বাস্থ্যবিধির আলোকে সেখানে একসঙ্গে দুই জন হাঁটতে হাঁটতে অতিক্রমের অবস্থা নেই। সকালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর ঐ মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির অরণ্য ও ভিআইভিই নামে দুটি ফ্যাশন হাউজের আউটলেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহিল কাফি। তিনি বলেন, এই আউটলেটগুলো সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটার কোনো সুযোগ না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এখানে ন্যূনতম সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। টানেল বা স্প্রে ফটকও তৈরি করা হয়নি। দেখা যায়নি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও। মার্কেট খোলার মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে রবিবার এআরএ সেন্টার ও এডিসি ইমপায়ার নামে দুটি মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা করা হলে পুলিশ পুনরায় চালুর অনুমতি দেবে। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, সারাদেশেই একই ধরনের অবস্থার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের মার্কেট-শপিং মলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানার নামমাত্র লক্ষণ চোখে পড়ছে না। জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম নিজেই মার্কেট পরিদর্শনে নেমেছেন। পরে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী সরকারের নিয়ম মানছেন না। তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পরিস্থিতি একই থাকলে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে দিনাজপুর শহরের মার্কেটগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। কিছু কিছু দোকানে প্রবেশের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করলেও বেশিরভাগ দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন