মায়ের মুক্তির আগে কেউ রাস্তা ছাড়বেন না: আমির খসরু

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণ, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা- ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, বাকস্বাধীনতার অধিকার কেঙ্গে নেয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা যখন বিচার চাইছি, অনেকে বলেছে- আপনারা বিচার পাবেন না।’

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের ২ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে তার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন আইনি ব্যবস্থায় গিয়েছি দেশের মানুষ বলেছে, আপনারা বিচার পাবেন না। বন্ধুগণ আজকে মনে রাখতে হবে- বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পাবে না। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি- কেউ রাস্তা ছেড়ে যাবেন না। যতদিন আমরা গণতন্ত্রের মাকে আমাদের মাকে মুক্ত করতে না পারবো ততদিন আমরা রাস্তায় থাকবো।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধুগণ, এই বিশাল জনসভায় আজকে উপস্থিত যারা হয়েছেন, আমি নিশ্চিত আপনাদের প্রায় সবাই সিটি নির্বাচনের কার্যক্রমের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে জড়িত ছিলেন। মিছিল করেছেন। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে নির্বাচনের সময়। মিডিয়াতে দেখেছি, তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা শহরে মিছিল করেছে। কিন্তু সেই হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় নাই। কেন যায় নাই? বিএনপির পক্ষে ধানের শীষের পক্ষে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় ছিল। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে যায় নাই।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে এই কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচনে বিশ্বাস করে না ঢাকার মানুষ। এই নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢাকার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। অনেকে বলেছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাকি সরকারের পাতানো নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে। আমরা কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও এই নির্বাচনকে বৈধতা দিতে পারি নাই। প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী বিধি একশ শতাংশ ভঙ্গ করেছে, আর বিএনপি একশ শতাংশ মেনে চলেছে।’

আমির খসরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অবস্থা এত করুণ, দলীয় কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট তৈরি করে তারপরও তারা নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে পারে নাই। ভোটের দিন প্রধানমন্ত্রীকে ভোট চাইতে হলো। কী করুণ অবস্থা তাদের।’

সমাবেশে উপস্থিত আছেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো.শাজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকনসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন