মৌলভীবাজারে মেতে উঠেছে নবান্নের ধান কাটার উৎসব

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারে মেতে উঠেছে নবান্নের ধান কাটার উৎসবে কৃষকদের মুখে ফিরে আসছে স্বস্তির কিছুটা হাসি। হেমন্তের চিরচেনা বাংলার রুপ নবান্ন উৎসব। বাঙালির নবান্ন উৎসব শুরু হয় পয়লা অগ্রহায়ণ থেকে। চারিদিকে শুরু হয়েছে নবান্নের আমেজ। তবে এখন আর অনেক সময় অগ্রহায়ণের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়না। আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই আংশিক শুরু হয় নবান্নের কিছু আগে বা প্রথম দিকে। নবান্নের ঘ্রাণে মুখরিত মৌলভীবাজারের বাতাস চারিদিকে কৃষকদের আনন্দের উল্লাস।

এখন মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধানকাটা উৎসব। যদিও পুরো জমি গুলো কাটার উপযোগী হয় নাই পেকেছে আংশিক তবে ফলন ভালো হওয়াতে কৃষক ফিরে পেয়েছে স্বস্তি। হেমন্তের প্রাণ যে নবান্ন উৎসব। তাই কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে নতুন ধানের নতুন চালের পিঠাপুলির আয়োজন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্বল্প সময়ে অধিক ফলন হয় এ ধরনের জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি-৭৫ জাতের ধান। এ ধান ১১৫ দিনে ফসল কাটার জন্য উপযোগী হয়ে যায়। ব্রি-৭৫ জাতের চাল সরু থাকায় খেতে অধিকাংশ মানুষ পছন্দ করেন। এর চাল মানসম্পন্ন হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। হেক্টর প্রতি এ ধানের উৎপাদন হয় সাড়ে ৫ মেট্রিক টন পযর্ন্ত। এছাড়াও জমি থেকে ধান কাটার পর একই জমিতে সময় মতো রবিশস্য ফসল চাষ করা যায়, যেমন সরিষা, সুর্যমূখি, ভুট্রা, ডাল চাষ হয়। রবিশস্য চাষাবাদ বৃদ্ধি পেলে বিদেশ থেকে তৈল ও ডাল আমদানি নির্ভবতা অনেকটা কমে আসবে। কৃষকরা বলছেন, সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকী দেয়। কিন্তু আমরা কৃষি অফিস থেকে কোন ধরণের সহযোগীতা পাই না। এমনকি আমাদের কোন খোজ খবর নেওয়া হয় না। পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয় কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

অনেকেই আবার বলছেন, কৃষি অফিস থেকে যে উপকরণগুলো দেওয়া হয় সেগুলো অনেকটা নিম্ন মানের। সরকার যেহেতু কৃষিখাতে ভর্তুকী দেয় তাই মানসম্মত উপকরণগুলো যেন আমরা পাই। কৃষক তুহিনুর রহমান হাজারী জানান, এ বছর ৫০ কেয়ার জমিতে রোপা আমন ব্রি ধান-৪৯, গুটি স্বর্না চাষ করেছেন। প্রত্যেকটি জাতের ধানের ফলন ভাল হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পকালিন ব্রি ধান-৭৫ আশাতিত ফলন হয়েছে।কিন্তু কৃষি অফিস থেকে কোন রকম পরামর্শ না পাওয়াতে এই ধান রোপন করেন নি বলে জানান। গত বছর ৫০ কেয়ার জমিতে ২৫০ মন ধান পেয়েছেন। এ বছরও প্রায় ৬০ কেয়ার জমিতে ৩০০ মনের বেশী ধান পাবেন বলে আশাবাদি। এলাকার আরেক কৃষক সুমন মিয়া (বর্গা চাষী) জানান, আমরা মানুষের জমি চাষ করে যে পরিমান ধান পাই তা দিয়ে জমির সার বীজে খরচ উঠে না। স্বল্পকালিন ব্রি ধান-৭৫ আশাতিত ফলন ভালো হওয়াতে বলেন,কৃষি অফিস যদি আমাদেরকে ব্রি ধান-৭৫ এর সম্পর্কে পরামর্শ দিলে স্বল্প সময়ে বেশি ধান পাইতাম।

তাদের মধ্যে অন্য কৃষকরা বলেন, সবাই যদি আগাম জাতের ধান লাগায় তাহলে ফসল পোকা মাকড় থেকে রক্ষা পাবে। কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তর যে উপকরণ দেয় তা মানসম্মত নয়। মান সম্মত কৃষি উপকরণ ও সঠিক পরামর্শ দিলে কৃষকরা উপকৃত হবে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়ের হাইল হাওরে গেলে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতে রোপা আমন ব্রি ধান-৪৯, গুটি স্বর্না চাষ হয়েছে। কম সময়ে অধিক ফলন হয় এমন জাতের ধান জমিতে লাগানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ রয়েছে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, এবছর আমনের আবাদ হয়েছে ১লক্ষ ১শত ৫০ হেক্টর জমিতে। রোপা আমন উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ২লক্ষ ৭০হাজার ৪শত ৫ মেট্টিক টন চাল। তিনি বলেন, এ মৌসুমে ব্রি ধান-৪৯ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। এছাড়াও চাষ হয়েছে হাইব্রিড, ব্রি-৫৮, ব্রি-৫২ ধান। নতুন ধান ব্রি-৭৫ ভালো হয়েছে। এছাড়াও ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-১৪ ফলন ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন