মৌলভীবাজার শাবাব-মাহি হত্যা’র ২ বছর : পূর্ণ তদন্তে পিবিআই

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার শহরে আলোচিত শাবাব-মাহি হত্যা মামলাটি এখনো কোন কূল-কিনারায় পৌঁছায়নি। বাদীনির নারাজির প্রেক্ষিতে মামলাটি পিবিআই এখন তদন্ত করছে। আলোচিত এ জোড়া খুনের ঘটনায় শাবাব পরিবার থেকে তার মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করলেও নিহত মাহির পক্ষ থেকে কেউ মামলা দায়ের করেননি।

নিজের নিরাপত্তা চেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় তিনি জিডি করেছেন। জিডিতে তিনি প্রতিপক্ষ আনিছুর রহমান তুষারসহ ৭ জনের নাম উল্যেখ করে বলেন, শাবাব হত্যা মামলার এ আসামীরা হাজতে থেকে পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পায়। তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী থানায় (জিডি নং-৭১৬) জিডি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নিরাপত্তার দাবী জানান।

উলেখ্য,মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বয়ে চলা রাজনৈতিক দ্বন্ধে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী শাবাব ও মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ আহমদ মাহিকে ছরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস মাঠে ওই দিন সন্ধ্যায়।

ঘটনার পর শাবাব’র মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্যেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় (মামলা নং-৩৬৩/১৭) হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বাদীনীর নারাজির প্রেক্ষিতে মামলাটি পিবিআইতে প্রেরণ করেন আদালত। এর আগে ১২ আসামির মধ্যে ৩জন কে গ্রেফতার ও ১ আসামী আত্মসর্মপণ করে আদালতে। শাবাব মৌলভীবাজার শহরের পূরাতন হাসপাতাল সড়ক এলাকার আবুবক্কর সিদ্দিক ও সেলিনা রহমান’র কনিষ্ঠ পুত্র। মাহি সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের বিলাল মিয়া ও জুলেখা বেগম’র পুত্র।

মৌলভীবাজার পিবিআই’র এডিশনাল এসপি নজরুল ইসলাম জানান, শাবাব- মাহি হত্যা মামলাটির তদন্ত চলছে। ওই মামলা থেকে দুই আসামী বাদ পড়াতে বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আবারো মামলার তদন্তের কাজ শুরু হয়। স্বাক্ষী-প্রমাণে যদি ওই দুজন দোষী হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন