রাতের আঁধারেই জামালপুর ছাড়েন ডিসি, উধাও সেই নারীও

নারী অফিস সহকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।

তার জায়গায় নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. এনামুল হক। রবিবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া সংবাদে জানা গেছে, রাতের আঁধারে জামালপুর ছেড়েছে অন্যত্র চলে গেছেন ওএসডি হওয়া বির্তকিত জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।

নারী অফিস সহকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের ঘটনায় তাকে ওএসডি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার সাক্ষরিত এক আদেশপত্রে আহমেদ কবীরকে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়।

তার স্থলে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ এনামুল হককে। তবে এ আদেশ আসার আগেই জনরোষ আতংকে রাতের আঁধারে জামালপুর ছেড়ে চলে যান আহমেদ কবির।

সূত্র জানায়, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শনিবার রাত ৩টায় তিনি জামালপুর ত্যাগ করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।

এদিকে উধাও হয়ে গেছেন সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা নামের সেই নারী অফিস সহকর্মীও। সকাল থেকেই হদিস মিলছে না তার।

এ ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়ছেন, অভিযুক্ত ওই নারী সহকর্মী কি নিজ থেকে আত্মগোপনে গেলেন? নাকি ডিসি আহমেদ কবীরই তাকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন?

ওই নারী সহকর্মীর অবস্থান জানতে সাংবাদিকদের সঙ্গে জামালপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছেন উৎসুক জনতা। তাই নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রোববার নিয়মিতভাবেই কর্মক্ষেত্রে যোগদানের কথা ছিল সাধনার। তবে তাকে ডিসি অফিসে পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজিব কুমার সরকার জানিয়েছেন, বিনা নোটিশে কর্মক্ষেত্রে সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

তবে সাধনার মা জানিয়েছেন, তার মেয়ে বেড়াতে গিয়েছে।

সাধনার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জামালপুরের ডিসির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাটি ‘সাজানো’ বলে দাবি করেন ডিসি আহমেদ কবীর। ওই ঘটনায় জামালপুরসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

You might also like