রাবির নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ‘সম্মিলিত’ চেষ্টা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দিয়েছিল সেই নির্দেশনা প্রত্যাহারের জন্য যৌথভাবে চেষ্টা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সদর আসনের সংসদ সদস্য। এমন ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থগিত করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের আন্দোলন।

বুধবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

তিনি বলেন, একটা ছোটখাট ভুল বুঝাবুঝি থেকে এই আন্দোলনটা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী একটি প্রতিবন্ধী ছেলেকে, যে ছেলেটি বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিল, তার নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। সেই ছেলেটির নিয়োগের পর ছাত্রলীগ নেতারা তাদের নিয়োগের জন্য আন্দোলন করে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে না। আজ উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের একটি ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মাননীয় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সংসদ সদস্যসহ আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এই নিয়োগ নিষেধাঙ্গা প্রত্যাহারের চেষ্টা করব।

 

এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠায় শিক্ষামন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রশাসনিক কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক সমাজের একাংশ। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে অভিযোগের প্রমাণ পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। আর সেই তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে নিয়োগ কার্যক্রম কেন বন্ধ থাকবে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য কেন ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ সমুন্নত রাখতে পারেননি তার প্রতিবাদে গত সোমবার আন্দোলন নামে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক কমিটির চাকরিপ্রত্যাশী কিছু নেতাকর্মী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের আন্দোলন আপাতত স্থগিত করছি। আমরা পরবর্তীতে কোনো কিছু করলে সাংবাদিকদের সেটা জানাবো।

আরও পড়ুন