রুম্পা ‘হত্যার’ বিচার দাবিতে সহপাঠীদের বিক্ষোভ

রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা ‘হত্যার’ বিচার দাবিতে ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধেশ্বরীতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের ফটক থেকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আধা ঘণ্টার এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহফুজুল হক ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে যান। সেখানে তারা মানববন্ধন করে করেন।

রাজধানীর রমনা থানাধীন সিদ্ধেশ্বরীতে একটি ভবন থেকে পড়ে বুধবার রাতে অজ্ঞাত তরুণীর (২০) মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১) বলে জানা গেছে। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার বাবার নাম রোকন উদ্দিন। তিনি হবিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। রুম্পার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও বর্তমানে রাজধানীর মালিবাগ শান্তীবাগ এলাকায় থাকতেন। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবার মরদেহের ছবি দেখে সনাক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার নিহত তরুণীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে হিমঘরে রাখা হয়।

রমনা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মালিবাগ সিআইডি অফিসের রাস্তার গলির ভেতর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে এ ঘটনাটি ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে কোনো একটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়লে তার মৃত্যু হয়। ভবনটি শনাক্ত হয়েছে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, তরুণীর শরীরের একাধিক জায়গায় জখম রয়েছে। অনেক উঁচু থেকে পড়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি ওপর থেকে লাফিয়ে পড়েছে নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে তা কখনো চিকিৎসকের পক্ষে বলা সম্ভব না।

তিনি জানান, তবে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হতে মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন রমনা থানার এসআই আবুল খায়ের।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তরুণীর নাকে রক্তাক্ত জখম, বুকের ডান পাশে দাগ আছে, মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙা, বাম হাতের কনুই ভাঙা, ডান পায়ের গোড়ালিও ভাঙা ছিল।

রুম্পা ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়তেন। মালিবাগের শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত। রুম্পার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ওই থানার এসআই আবুল খায়ের।

আরও পড়ুন