লেবানন থেকে ১৪৪ জন প্রবাসী ফিরছে

দেশে ফেরত যাওয়ার আবেদনকারী ১৪৪ জনের ভিসা পাওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের নিযুক্ত বৈরুত দূতাবাসেররাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার বিমান টিকিট তাদের হাতে তুলে দেন। ২৬ এবং ২৭ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গল ও বুধবার কাতার এয়ারলাইন্স এর দুটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তারা।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দূতাবাসের জরুরী নোটিশে দেশে ফেরত যাওয়ার আবেদনকারী ভিসা পাওয়া সিরিয়ালধারী মোট ১৪৪ জনকে দূতাবাসে স্ব শরীরে উপস্থিত হয়ে বিমান টিকিট সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হয় দূতাবাস থেকে। আর এ সময়ের মধ্যে যারা টিকিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দূতাবাসের কোন দায় দায়িত্ব থাকবেনা বলেও জানানো হয় নোটিশে।

সিকিউরিটি জেনারেল থেকে ভিসা পাওয়া ১৪৪ জনের মধ্য থেকে ১৬ জনকে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নাই।

তাদেরকে অতিসত্বর দূতাবাসে যোগাযোগ করে দেশে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

যাদের ভিসা পাওয়া গেছে কিন্ত দূতাবাস হতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি তাদের সিরিয়াল নাম্বারগুলা হচ্ছে :-
(০৯,৫০,৫১,৭৭,৮৫,৯০,১০০,১০৪,১১৪,১২৪,১২৫,১২৯,১৩০,১৩২,১৫৬ এবং ১৫৮).

প্রসঙ্গত ১৫, ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসে অবৈধ প্রবাসীদেরকে শুধুমাত্র এক বছরের জরিমানা ও বিমান টিকিট কিনে দেশে ফেরার সুযোগে আবেদন জমা করা হয়। পুরুষদের জন্য ২৬৭$ মার্কিন ডলার ও নারীদের জন্য ২০০$ মার্কিন ডলার জরিমানা ও বিমান টিকেটসহ আবেদন ফরম জমা করা হয়।

৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের নিযুক্ত বৈরুতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার। সে সময় এ কর্মসূচি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে এবং তিনটি ধাপে প্রবাসীরা আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রদূত। তাছাড়া সেপ্টেম্বরে যারা আবেদন করতে পারবে না, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তারা এই সুযোগ নিয়ে আবার আবেদন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

তিনি বলেন, ‘লেবাননে উচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘদিন আলোচনায় অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দূতাবাস এই সুযোগটির ব্যবস্থা করেছে। ফলে প্রবাসীরা কোনরকম জেল ও বড় অংকের জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যাদের নামে চুরি, মাদক ও ফৌজদারি মামলা বা লেবাননের আদালতে পরোয়ানা রয়েছে- তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি দেশে ফেরত যেতে দূতাবাসের সাহায্য কামনা করেন, তাহলে হাতে নেয়া কর্মসূচি শেষ হলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা দেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লেবাননের আইন অনুযায়ী দূতাবাসের মাধ্যমে জেনারেল সিকিউরিটি থেকে ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ করতে হয়। তাই যারা দেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর তাদের অবশ্যই দেশে ফেরত যেতে হবে। অন্যথায় লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সে ক্ষেত্রে দূতাবাসের করণীয় কিছু থাকবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

আরও পড়ুন