শিল্পী সমিতির নির্বাচন এবং একান্তই আমার নিজের কিছু কথা

আগামীকাল ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এবার দু’টি প্যানেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সমিতির সদস্যরা বরাবরের মতো উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে শিল্পীদের এই প্রাণের সংগঠনের আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। আমারও নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। সমিতির চলমান কমিটি কর্তৃক জেনেছিলাম এবার আমিও ভোটার! তবে ভোটার লিস্ট যখন প্রকাশিত হলো সেখানে আমার নাম নেই এবং ছিল না! কিন্তু উল্লেখযোগ্য চরিত্রে আমার অভিনীত তিন ছবি মুক্তি পাওয়া সত্ত্বেও আমার ভোটাধিকার বাতিল করা হয়েছে। কেন করা হয়েছে, কোন কারণে করা হয়েছে কিংবা কারা করেছে- এই মুহূর্তে সেই বিতর্কে যাচ্ছি না।

শিল্পী সমিতির সম্মানিত সদস্যদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ- সত্যিকারের শিল্পীদেরকে আপনাদের নেতা নির্বাচন করুন, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে সুবিধা নিতে নয়, বরং চলচ্চিত্রের সামষ্টিক, সামগ্রিক এবং শিল্পীদের উন্নয়নে কাজ করবেন। সাময়িকভাবে কিছুমাত্র লাভের জন্য ভবিষ্যৎ শিল্পী পরিচয় নষ্ট করবেন না- ছোট্ট অনুরোধ সমিতির বিচক্ষণ ভোটারদের কাছে। এখনও চাইলে সবাই মিলে এই শিল্পকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে বলেই বিশ্বাস করি। কিন্তু সাময়িকভাবে নামমাত্র লাভের জন্য আপনার ভুল সিদ্ধান্তের ভোটে ভুল প্রার্থী নির্বাচিত হলে সেটা অনেকখানি সম্ভব হবে না! যারা এই সময়ে অনেকের বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে এসে চেষ্টা করছেন- এই সুন্দর জায়গাটাকে আরও সুন্দর করে তোলার, তাদেরকে সহযোগিতা করুন।

প্রকৃত শিল্পীদের কাছেই যেনো শিল্পী সমিতি পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, যাদের হাত ধরেই গোটা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের ফল্গুধারা বইতে শুরু করবে। আমি ভোট দিতে না পারলেও ২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে গিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র সকল সহকর্মীর সঙ্গে নির্বাচনী উৎসবে সামিল হতাম। এমনটাই ইচ্ছে ছিল! কিন্তু জরুরী কাজে এই মুহূর্তে দেশের বাইরে থাকায় ওইদিন সবাইকে খুব মিস করবো। তবে অবশ্যই চাই সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুপ্রতীম পরিবেশে শিল্পী সমিতির আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। যারা নির্বাচনে জয়ী হবেন, তাদের জন্যে আগাম শুভেচ্ছা। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান হচ্ছে, তাই সবাই স্বাস্থ্য সতর্কতায় মাস্ক পরিধান করুন এবং নিজে ও অন্যকে নিরাপদ রাখুন।

 

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

আরও পড়ুন