শেষ সময়ে ব্যাংকে বড় ঋণ খেলাপিদের ভিড়

ব্যাংক ঋণ খেলাপি’র তালিকা থেকে বের হতে অনেক ঋণ খেলাপিই মরিয়া। অনেকেই আবার বুঝে শুনে পা বাড়াচ্ছেন। হিসেব কষছেন- ঋণ সমন্বয় হলে আবার কি ঋণ মিলবে? দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট এবং নয় শতাংশ সু সুবিধার সুযোগ নেবার আবেদন করার শেষ সময়ে এসে চলছে নানা বিশ্লেষণ। রাষ্ট্রায়ত্ব অগ্রণী ব্যাংকেই জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে চারশ আবেদন। শেষ সময়ে ‘বিগ ফিস’ অর্থাৎ বড় ঋণ খেলাপিরা ব্যাংকগুলোতে ধর্ণা দিচ্ছেন। ২০ অক্টোবর শেষ হচ্ছে আবেদনের সময়। রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ চার হাজার কোটি টাকা। সুবিধা দেবার ঘোষণার পর ব্যাংকটিতে চার থেকে সাড়ে চার’শ আবেদন জমা পড়েছে। বেশির ভাগই ছোট ঋণ।ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ সামস-উল ইসলাম জানান, আবেদন জমার শেষ সময়ে বড় ঋণ খেলাপিরা আসবে। এ বিষয়ে ঋণ খেলাপিদের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ঋণ খেলাপিদের কাছে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বড় ঋণ খেলাপিদের প্রশ্ন নিয়মিত হলে আবারও কি ঋণ পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এ বিষয়ে কোনো কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। তবে স্বাভাবিক নিয়মে যা বলে, একবার কারো ঋণ নিয়মিত হলে স্বাভাবিকভাবেই সে আবার ঋণ পায়। জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের মতো অন্যান্য সরকারি প্রতিটি ব্যাংকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে ঋণ নিয়মিত করতে ইশ থেকে আড়াইশ আবেন জমা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ছয় মাস (জানুয়ারি-জুন) শেষে সরকারি সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। যা এ ছয় ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের ৩১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। শুধু রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকেই নয়, বেসরকারি ব্যাংকগুলোও কষছে নানা সমীকরণ। এসব ব্যাংকেও শত শত ঋণ খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে আবেদন করেছে।ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকে বেশ কিছু আবেদন পড়েছে। যে গ্রাহক ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে সে যেমন আবেদন করছে তেমন যে দেড়শ কোটি টাকা নিয়েছে সে ও আবেদন করছে। ফলে এতে সুযোগের অপব্যবহার হতে পারে। এটা আসলে কে কি পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সেটার উপর সুবিধা দেয়াটা নির্ধারণ করলে ভালো হতো। অনেকে হয়তো ঋণ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কারণে সময়মতো শোধ করতে পারেনি। এমন ঘটনা ব্যাংক সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করেছে। কিন্তু যেসব গ্রাহক ঋণ নিয়ে কোনোদিন টাকা শোধ করেনি, ইচ্ছাকৃত খেলাপি তাদের এ সুবিধা দেয়া হলে সে হয়তো এককালীন সুবিধা নিয়ে টাকা পরিশোধ করে নিয়মিত গ্রাহক হয়ে যাবে; কিন্তু এতে ব্যাংকের কোনো লাভ নেই। কারণ, কাগজে কলমে খেলাপির হার কম দেখালেও ব্যাংকের এসব ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) তো সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংক তেমন লাভবান হচ্ছে না। জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলো মোট ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। বিতরণকৃত এ ঋণের ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের পর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যত খেলাপি ঋণ আছে তার হিসাব করা হবে। কোনো ঋণ খেলাপি যদি মনে করে এককালীন ঋণ পরিশোধ করে খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে, তাহলে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সার্কুলারে।

আরও পড়ুন