সুনামগঞ্জে প্রশাসন-আইনজীবীরা মুখোমুখি

সুনামগঞ্জে নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট জুডিশিয়াল আদালত ভবনের গেটে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া এ নিয়ে প্রশাসন ও আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন।

রোববার সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আদালত এলাকায় মিছিল নিয়ে গিয়ে গুদামের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

আইনজীবীদের অভিযোগ, গুদামটি নির্মাণ হলে জুডিশিয়াল ভবনের মূল প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং এই ভবনের দৃষ্টিনন্দন ভবনটির সৌন্দর্য নষ্ট হবে।

এদিকে, আদালতের প্রবেশ পথে গুদাম নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি।

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকটে চাঁন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহারুল ইসলাম এই মামলায় বাদি হয়েছেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে মামলায় বিবাদী করা হয়েছে। আদলত গুদামের নির্মাণ কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার বিকাল পৌনে ৩টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

এ সময় তিনি বলেন, গুদাম নির্মাণের জন্য আমাদের জায়গার অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে জুডিশিয়াল আদালত ভবনের সৌন্দর্য নষ্টের বিষয়ও রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, শামীমা শাহরিয়ার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, পৌরমেয়র নাদের বখত প্রমুখ।

অপরদিকে, দুপুরে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা আইনজীবী সমিতি। এ সময় জানানো হয়, সৌরম্য জুডিশিয়াল আদালত ভবনের প্রবেশ পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও ভবনের সৌন্দর্য বিনষ্টের উদ্দেশ্যে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে গুদাম নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে কাজ বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ করার পর কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে সমিতির পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সদর আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে অবহিত করা হয়। তারা এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখবেন বলে সমিতিকে আশ্বস্ত করেন। পরে সমিতির সিদ্ধান্তে নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে আদালতে মামলা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জেলা প্রশাসন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য যেখানে গুদামঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সেটি গণপূর্ত বিভাগের জায়গা। অথচ গণপূর্ত বিভাগ গুদাম নির্মাণে বিষয়ে কিছুই জানে না। নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো গুদামঘর নদী তীর কিংবা সড়ক-মহাসড়কের পাশে নির্মাণের কথা, এখানে সেই বিষয়টি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য আফতাব উদ্দিন আহমদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি চাঁন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেরেনূর আলী, আবদুল হক প্রমুখ। এদিকে, নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে রোববার সকালে আদালত এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন আইনজীবীরা। মিছিলটি নির্মাণাধীন গুদামের কাছে গেলে কর্মরত শ্রমিকরা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে আদালত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবিল আয়াম বলেন, যে জায়গায় জেলা প্রশাসন গুদাম নির্মাণ কাজ শুরু করেছে সেটি গণপূর্ত বিভাগের জায়গা। এ ব্যাপারে আমাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ সাংবাদিকদের বলেন, গুদাম নির্মাণের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তাদের পক্ষ থেকে মিছিল নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন