সৌদি আরবে নিখোঁজ নরসিংদীর ফয়সাল শোকে নির্বাক বাবা-মা

এম,লুৎফর রহমান,নরসিংদী প্রতিনিধি ঃ

সৌদি আরবে প্রায় একমাস যাবৎ নরসিংদীর ছেলে ফয়সাল। তার এই নিখোঁজের খবরে দেশের মাটিতে নির্বাক ফয়সালের বাবা-মা। সন্তানের সন্ধান পেতে সরকারের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোনো সন্ধান না পেয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছেন মা মরিয়ম বেগম ও বাবা রহিম গাজী। নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আব্দুর রহিম গাজীর দ্বিতীয় ছেলে ফয়সাল গাজী। ফয়সাল গাজীর নিজ বাড়ি আলীপুরে গিয়ে কথা হয় সৌদি আরবে নিখোঁজ ফয়সালের বাবা রহিম গাজীর সঙ্গে। সাংবাদিক পরিচয় দিলে সন্তান ফয়সালের সন্ধান জানতে চেয়ে চোখ থেকে জল ঝরান বাবা রহিম গাজী।
তিনি জানান, চার ছেলের মধ্যে ফয়সাল দ্বিতীয়। অনেক অভাব অনটনের মধ্যে কৃষি কাজ করেই সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে সৌদিতে পারি জমায় ফয়সাল। সৌদিতে প্রথম পর্যায়ে কিছুটা সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠে সে। বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর বাড়িতেও আসে। পরে পুনরায় সৌদিতে ফিরে যায় ফয়সাল। এই যাওয়াই যেন তার শেষ যাওয়া। এর মধ্যে বাংলাদেশে ফয়সালের মায়ের কাছে খবর আসে গত মাসে ২৭ অক্টোবর বিকালে মদিনায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় ফয়সাল। এই খবর জানতে পেরে ফয়সালের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশের অন্যান্যরা সৌদির বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলাখানায় খবর নিয়েও ফয়সালের সন্ধান পায়নি। তবে কেউ কেউ নাকি বলেছেন সৌদির একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাকে ধরে নিয়ে গেছে।
এই ঘটনায় নিখোঁজ ফয়সালের মা মরিয়ম বেগম ১১ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ওয়েজ ওনার্স কল্যাণ বোর্ড বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) উপসচিব মোঃ জহিরুল ইসলাম গত ১২ নভেম্বর জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) আমিনুল ইসলামকে লিখিত ভাবে নিখোঁজ ফয়সালের সন্ধানের জন্য দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান। কিন্তু অদ্যাবধি কাউন্সিলর (শ্রম) নিখোঁজ ফয়সালের বিষয়ে কোনো কার্যকরী ফলাফল দেখাতে পারেননি। এতে নিখোঁজ ফয়সাল গাজীর মা-বাবাসহ পরিবারের লোকজন উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। গত শুক্রবার ( ২২ নভেম্বর) রাতে ফয়সালের বড় ভাই কুয়েতে কর্মরত কাওসার গাজীর সঙ্গে কথা বলে এসব কথা জানান।
চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর ফয়সালের মাকে মোবাইল করে মদিনা থেকে দোয়া প্রার্থনা করতে বলেন ফয়সালের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন এবং বলেন ফয়সালের সন্ধানের জন্য চেষ্টা চলছে। ফয়সালের রুমমেট কিশোরগঞ্জের গিয়াস উদ্দিন ওই দিন রাতে বাসায় গিয়ে ফয়সালের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন ধরেনি ফয়সাল। সন্ধ্যার পর থেকে তার মোবাইলটিও বন্ধ হয়ে যায়। নিখোঁজ ফয়সালের বড় ভাই কাউসার গাজী জানায়, ভগ্নিপতি নাজিম উদ্দিন ও তার চাচা গত ৪ মার্চ ওমরাহ পালন করতে মদিনায় গিয়ে এক পাকিস্তানি গাড়ি চালকের ধাক্কায় মারা যান। এতে নিখোঁজ ফয়সাল দুর্ঘটনায় নিহত ভগ্নিপতি ও তার চাচার পক্ষে মামলা দায়ের করেন পাকিস্তানি ওই গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে। মামলায় পাকিস্তানি চালককে আটক করে সৌদি পুলিশ। মামলার শুনানিতেও একাধিকবার আদালতে হাজির হয়েছিল ফয়সাল। দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ওই মামলায় ফয়সালের মাধ্যমেই ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার কথা ছিল।
#
আরও পড়ুন