স্বাধীনতা এসেছিল বলেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি

স্বাধীনতা এদেশের মানুষের হাজার বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ অর্জন। অতীতে সামন্ত রাজাদের শাসনামলে রাজার ইচ্ছা-অনিচ্ছায় দেশ পরিচালিত হতো। তখন রাজ্য পরিচালনায় জনমতের কোনো মূল্যই ছিল না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশবাসীকে একটি আধুনিক সংবিধান উপহার দিয়েছেন। আমাদের দেশের সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সাধারণ মানুষই সব ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। অর্থাৎ এ রাষ্ট্রটি জনগণের। ব্রিটিশের দীর্ঘ শাসন-শোষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যে দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, পাকিস্তান আমলে সে অবস্থা আরও চরম আকার ধারণ করে।

উদাহরণ হিসেবে কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করা যায়। পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানের কৃষি খাতকে সরকারি নানা রকম প্রণোদনা প্রদান করা হলেও পূর্ব পাকিস্তানের কৃষি খাত ছিল চরম অবহেলার শিকার। আমাদের দেশের মতো এমন উর্বর ভূমি পৃথিবীর কম দেশেই আছে। অথচ পাকিস্তান আমলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পূর্ব পাকিস্তানের কৃষি খাত ক্রমে পিছিয়ে পড়তে থাকে। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তানে খাদ্য ঘাটতি লেগেই থাকত। ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। স্বাধীনতার পর এ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতির কারণে কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবনমানে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এতে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে।

স্বাধীনতার পর দেশে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদিত হতো, এখন তার চেয়ে চার-পাঁচগুণ বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়। প্রাণিজ প্রোটিনসহ উৎপাদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক সুখবর। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে এখন বাংলাদেশ পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী কোনো কোনো দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যেই আমাদের দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে, এটা জোর দিয়েই বলা যায়।

এখন দরকার যেসব ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা রয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। এক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। এছাড়া দেশের অসাম্প্রদায়িকতার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবিধানের চার মূলনীতি অনুযায়ী যদি দেশ এগিয়ে যায়, জনগণ যদি দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা থাকেন তারা যদি নির্ভীকভাবে দেশ পরিচালনা করেন, তাহলে দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন হবে না। দেশে বর্তমান অগ্রগতির ধারা যাতে বজায় থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মাঝে মাঝে কিছু সিন্ডিকেটের খবর পাই, যারা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করে। তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অধ্যাপক অনুপম সেন: শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী

আরও পড়ুন