হঠাৎ ডেঙ্গু শকে মারা যাচ্ছেন আক্রান্তরা

গত কয়েকদিনে রাজধানীতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে। সবার মধ্যে আতঙ্ক ডেঙ্গু নিয়ে।

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। দেখতে দেখতে প্রায় মহামারির রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু-আক্রান্ত রোগী ও এ রোগে মৃতের সরকারি আর বেসরকারি সংখ্যায় বিস্তর ফারাক। হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগী নিয়ে হিমশিম অবস্থায়।

ইতিপূর্বে দেশে বিভিন্ন সময় ডেঙ্গু রোগ দেখা গেলেও এবারের মতো ভয়াবহ ছিল না। এবার যেমন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তেমনি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

এ ব্যাপারে বিশ্লেষকরা বলেন, এবার ডেঙ্গু জটিল অবস্থার দিকে এগিয়েছে। ডেঙ্গু এমন পরিস্থিতিতে গেলে ‘ডেঙ্গু শক’ হয়।

ডেঙ্গু শকের উপসর্গগুলো সম্পর্কে তিনি জানান, চামড়া ভেদ করে রক্ত চলে এসে চামড়ার ওপর কালো দাগ পড়ে। কালো পায়খানা হওয়া। অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত ঝরে। রক্তের প্লাজমা লিকেজ হয়।

পেনসিলভানিয়ার স্কুল অব মেডিসিনের পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো ড. মো. ফজলুল করিমের মতে, ডেঙ্গু শক হলে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিভার ও হার্টের ক্রিয়া ক্ষমতা হ্রাস পায়।

এবার বাংলাদেশে ডেঙ্গুজ্বরে এই ডেঙ্গু শক বেশি হচ্ছে। মূলত শরীরের ফ্লুইড বের হয়ে যাওয়ার কারণে হঠাৎ শকে মানুষ মারা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে ড. মো. ফজলুল করিম এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাসের চার ধরনের স্ট্রেইন আছে : ডেন (DEN) ১, ২, ৩ ও ৪। মূলত ডেন ১ ও ২-এর কারণে ডেঙ্গুজ্বর হয়। যাদের শরীর এ স্ট্রেইনের বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না, তারা বেশি সংক্রমিত হন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সঙ্গে প্রচুর ফ্লুইড জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ডেঙ্গু মশা নিধন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন