২২ জেলায় ৩৭০ সক্রিয় অস্ত্র চোরাকারবারি বাবুরা এখন কোথায়

এম এ জলিল রানাঃ

২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর প্রথম শ্রেণীর দুটি জাতীয় পত্রিকায় অস্ত্র চোরাকারবারিদের নাম তালিকা প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি।

 

অথচ সম্প্রতি রাজধানীতে একে ৪৭ ও একে ৫৬ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফিরে দেখি ২০১৪ সালে ২৮ অক্টোবরে সেই সংবাদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন সেনাউল ইসলাম। তিনি শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের শ্রমিক লীগের সমন্বয় কমিটির সভাপতি তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি একজন জনপ্রতিনিধিও; স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলেন। এসবের আড়ালে সেনাউল ইসলামের আরেক পরিচয়, তিনি অস্ত্র চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। তিনি ও তাঁর ভাই যুবলীগ নেতা আখেরুল ওই এলাকার অস্ত্র চোরাকারবারিদের গডফাদার।

তাঁরা ভারত থেকে অস্ত্র এনে বাংলাদেশে বিক্রি করে থাকেন। ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের নামের তালিকাসহ একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সেনাউল ও আখেরুলের মতো সারা দেশের ৩৭০ জন অস্ত্র চোরাকারবারির নাম-পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন জেলার ৫৩ জনকে অস্ত্র চোরাকারবারের গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ২২ জেলার এই ৩৭০ জন অস্ত্র চোরাকারবারির মধ্যে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতা যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাও। প্র

তিবেদনে অস্ত্র চোরাকারবারি ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ ও বিজিবির কাছেও নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে অস্ত্র চোরাকারবারি হিসেবে নেত্রকোনা জেলার সাতজন, কুমিল্লার ২০ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চারজন, ফেনীর আটজন, রাজশাহীর ১৮ জন, নওগাঁর পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৪ জন, জয়পুরহাটের ২৯ জন, যশোরের ২৮ জন, ঝিনাইদহের ৯ জন, কুষ্টিয়ার ৩১ জন, চুয়াডাঙ্গার ১৪ জন, মেহেরপুরের ২৫ জন, সাতক্ষীরার ১৯ জন, বরিশালের ৩০ জন, দিনাজপুরের ১৫ জন, সিলেটের ২৪ জন, সুনামগঞ্জের ৯ জন, হবিগঞ্জের ৮ জন, রাঙামাটির ১৪ জন, খাগড়াছড়ির ১২ জন, বান্দরবান জেলার ২৭ জন- এই মোট ৩৭০ জনের নাম রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ের কিছু রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, সীমান্তরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় অবৈধ পথে অস্ত্র আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিজিবি আন্তরিকভাবে অস্ত্র চোরাচালান রোধে চেষ্টা করে যাচ্ছে। অস্ত্র চোরাকারবারিদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে সামান্যতম অভিযোগ পেলেও বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয় না, হবেও না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন সরঞ্জাম চেয়েছি সরকারের কাছে। পেয়ে গেলে আরো কার্যকরভাবে অস্ত্র চোরাচালান ঠেকানো যাবে।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় কিংবা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অথবা আকস্মিক তল্লাশির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র আটক করা হয়। সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়ি বনাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র আটক করা হয়েছে। দেশে বিভিন্ন গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।

এসব অবৈধ অস্ত্র প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে এসেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় এসব এলাকা দিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র চোরাচালান হয়ে থাকে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অস্ত্র চোরাকারবারিদের এ ধরনের দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট হয়ে সামাজিক নিরাপত্তা ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ বন্ধে বিওপি ও চেকপোস্টগুলোতে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ন করে টহল জোরদার করা দরকার। আরো বলা হয়, অস্ত্র চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে থানায় যেসব অস্ত্র মামলা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার। এ ছাড়া যেসব রাজনীতিক অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের অস্ত্র চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করে এ অপরাধ রোধ করা যেতে পারে

। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘র্যাবের মূল কাজের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র আটক একটা কাজ। অস্ত্র চোরাকারবারিদের খুঁজে বের করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিদিনই র্যাব অস্ত্র আটক করছে। র্যাব এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, কুমিল্লায় অস্ত্র চোরাকারবারের গডফাদারদের তালিকায় রয়েছেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক জিএস জহিরুল হক রিন্টু, কুমিল্লা সদরের শাকতলা এলাকার রাসেল, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিপন, কুমিল্লা সদরের মুন্সেফবাড়ি এলাকার তুহিন, কুমিল্লা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কোতোয়ালি থানার মুরাদপুরের প্রফেসরপাড়ার ৩ নম্বর গলির জিএস শহীদ, কোতোয়ালি থানার ঠাকুরপাড়া এলাকার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু। আরো রয়েছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কানকাপৈত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল বাহার, কুমিল্লা সদরের ফজলু মিয়ার ছেলে লাদেন জাকির। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উৎবাতুল বারী আবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অস্ত্র চোরাকারবারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার নাম তালিকায় থাকলে সেটি রাজনৈতিক কারণে থেকে থাকতে পারে।

’ গডফাদারের তালিকাভুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতিআখেরুল এবং তাঁর ভাই শ্রমিক লীগ নেতা ও শাহবাজ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সেনাউল সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি হত্যা মামলায় আখেরুল এখন কারাগারে রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেনাউল মেম্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী- সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। গত আন্দোলনের সময় জামায়াত-বিএনপির কর্মীরা আমার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। আমি সোনামসজিদ স্থলবন্দরের শ্রমিক লীগের নেতৃত্ব দিই। কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তালিকায় আমার নাম দিতে পারে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র চোরাচালানের যে অভিযোগের কথা বলছেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ ফেনী জেলায় অস্ত্র চোরাচালানের গডফাদারের নামের তালিকায় আছেন জিয়াউল আলম মিস্টার, ফজলুর রহমান বকুল ও গাউসুল ইসলাম মিনার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিয়াউল আলম মিস্টার ফেনী পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক।

তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলার আসামি, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ফজলুর রহমান বকুল ফেনী জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এবং ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আর গাউসুল ইসলাম মিনার সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুর রহমান বকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার নাম কেউ দিয়ে থাকতে পারে।’ বক্তব্য জানার জন্য মিনারকে সোমবার বিকেলে বারবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। নওগাঁ জেলার অস্ত্র চোরাকারবারিদের গডফাদারের তালিকায় রয়েছেন আত্রাই উপজেলার মো. সোলায়মান আলী, মান্দার চৌবারিয়া গ্রামের মো. শরিফুল ইসলাম, নেয়ামতপুর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের সাইফুদ্দিনের ছেলে আওয়ামী লীগ সমর্থক নাজমুল।

জয়পুরহাটে অস্ত্র চোরাকারবারিদের গডফাদার হিসেবে তালিকায় নাম রয়েছে আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দি গ্রামের গোলাম মাহফুজ চৌধুরীর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জানতে চাইলে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, এর আগেও আমার বিরুদ্ধে কালের কণ্ঠে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। আমি মামলা করেছিলাম।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি। প্রতিপক্ষের কে বা কারা আমার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে। আমি যদি অস্ত্র চোরাকারবারি হয়ে থাকি তাহলে তদন্ত করে সত্যতা দেখতে পারে সরকার।’ অস্ত্র চোরাকারবারিদের গডফাদার হিসেবে তালিকায় একজনই পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তিনি হলেন জয়পুরহাট ডিবির সাব-ইন্সপেক্টর আবদুল কাইয়ূম। জানতে চাইলে আবদুল কাইয়ূম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি অস্ত্র চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত হতে যাব কেন?’ এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে এখানে আছি এবং সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।’ রাজশাহীতে গডফাদার হিসেবে রয়েছে দুর্গাপুর উপজেলার ঘোরঘাই গ্রামের মানিক ওরফে কংফু মানিকের নাম।

আরো আছে গোদাগাড়ীর নওশাদ আলী, জাহাঙ্গীর আলম, আমিরুল ইসলামসহ ১৮ জনের নাম। নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকার সাতজন চোরাকারবারির নাম রয়েছে তালিকায়। তাঁরা হলেন তাজুল ইসলাম, মো. মজিম, আবদুর রশিদ, বিল্লাল হোসেন, মো. মতিউর রহমান, মোবারক হোসেন ও আবদুল হক মিয়া। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অস্ত্র আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা, চারঘাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, ভোলাহাট, শিবগঞ্জ, রহনপুর, গোমস্তাপুর, নওগাঁ জেলার ধামইরহাট, পত্নী তলা, সাপাহার উপজেলা নিরাপদ হওয়ায় আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাকারবারির গডফাদাররা ওই রুট দিয়ে ব্যাপকভাবে অস্ত্র দেশে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এসব রুটে চুনোপুঁটি চোরাকারবারিরা ধরা পড়লেও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে এ ব্যবসা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বিজিবি ৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু জাফর শেখ মো. বজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত পাঁচ-ছয় মাসে এ এলাকায় ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র আটক করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা অস্ত্র চোরাকারবারিদের আটক করে থানায় সোপর্দ করে।’ তিনি স্বীকার করেন, ‘যে পরিমাণ অস্ত্র ঢোকে, তার সব আটক করা সম্ভব হয় না।’

You might also like