৬ মাসের মধ্যে অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় ভ্যাকসিন বানানো সম্ভব : ডা. জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ভারতের সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিনের চুক্তি করার পর এখন তারা দিচ্ছে না। অথচ সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ছয় মাসের মধ্যে অক্সফোর্ডের ফর্মুলা দেশে এনে ভ্যাকসিন বানানো সম্ভব। সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে আইসিউ-তে লুটপাটের সুযোগ থাকায়- এদিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সম্মেলন কক্ষে নাগরিক সমাজের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, করোনায় একদিকে মানুষ মরছে, আর অন্যদিকে পরিবারগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সরকার। সরকারের ধার্য করা অযৌক্তিক ভ্যাট-ট্যাক্সের কারণে হাসপাতালে আইসিইউ ও অক্সিজেন ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিইউতে থাকা রোগী মারা গেলেও মোটা অঙ্কের অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে তার পরিবারকে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসাখাতে অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্য ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল, নারীর জন্য সুশাসনের নির্বাহী পরিচালক রবি আমানউল্লাহ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমান মহামারি মোকাবিলা করতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এগিয়ে এলেও সরকার আমাদের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ব্যাপকহারে করোনা টেস্টের পরামর্শ দেওয়া হলেও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৈরি কিট অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এজন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১০ কোটি টাকা গচ্চা গেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার অযৌক্তিক ভ্যাট-ট্যাক্স ধার্য করার কারণে হাসপাতালে আইসিইউ ও অক্সিজেন ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহর দান অক্সিজেন কিনতে সরকার ১৯ শতাংশ ভ্যাট আদায় করছে। ওষুধ প্রশাসনে একজন অযোগ্য লোককে দায়িত্ব দিয়ে এ খাতকে ধ্বংস করা হচ্ছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বল্পমূল্যে আইসি ইনজেকশন দিতে অনুমোদন চাইলো। বিনা কারণে তিন সপ্তাহ আবেদন ফেলে রাখা হয়েছে। যার কোনো উত্তর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির স্বাক্ষর করার ক্ষমতা নেই, অনুমোদনের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়।

সরকারের উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ভিসা ছাড়া ভারতের ৮ লাখ লোক বসবাস করলেও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট আবিষ্কারক ডা. বিজন কুমার শীলকে দেশে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন