তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কিন্তু সরকারী অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রে আইন ভঙ্গ

মোঃ ইকরামুল হক ইহান
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮
  • ৫৯ বার পঠিত

অনেক কারনেই দেবী ছবিটি নিয়ে দর্শকের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরী করেছে। সম্ভবত সবচেয়ে বড় কারনটি হলো জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে
সিনেমা। আর সেটিও আবার তাঁর সৃষ্ট পাঠকনন্দিত চরিত্র মিসির আলি-কে প্রথমবারের মতোরূপালী পর্দায় দেখার সুযোগে। পরিচালক অনম বিশ^াস, প্রযোজক জয়া আহসান,
প্রযোজনা সংস্থা সি তে সিনেমা (অনুদানে বাংলাদেশ সরকার) দেবী ছবিটি নির্মিত হয় এবং সিনেমাটির পরিবেশক জাজ মাল্টিমিডিয়া। গত ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ থেকে বিভিন্ন
প্রেক্ষাগৃহে দেবী সিনেমাটির প্রদর্শন শুরু হয়। সিনেমাটির প্রদর্শন শুরু হলেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা মানা হচ্ছেনা। দেবী চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রের জনপ্রিয় মিসির আলীকে
পুরো সিনেমাতে বেশি কিছু সময় ধরে প্রায় মোট ১২ বার ধূমপান করতে দেখা যায়। আরো উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, ঢাকা টোব্যাকোর, উনস্টোন সিগারেটের প্যাকেট খুলে সিগারেট বের করা ও
আবার শার্টের পকেটে প্যাকেটি ভেতরে রেখে দেওয়ার দৃশ্যের মাধ্যমে বোঝা যায় চলচ্চিত্রটিতে নির্দিষ্ট একটি সিগারেট ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন করা হয়েছে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার(নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) অনুসারে ধূমপানের দৃশ্য দেখানো যাবে না। কোন সিনেমায় কাহিনীর প্রয়োজনে অত্যাবশ্যক হলে তামাকজাত দ্রব্য
ব্যবহার দৃশ্য রহিয়াছে এইরূপ কোন সিনেমা প্রদর্শনকালে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে লিখিত সতর্কবাণী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, পর্দায় প্রদর্শনপূর্বক উহা
প্রদর্শন করা যাইবে। সিনেমায় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধান- ৫ এর উপ-ধারা (১) এর
দফা (ঙ) এর শর্তাংশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন সিনেমার কাহিনীর প্রয়োজনে অত্যাবশ্যক হইলেতামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য রহিয়াছে এইরূপ কোন সিনেমা প্রদর্শনকালে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে লিখিত সতর্কবাণী নিন্ম বর্ণিত পদ্ধতিতে পর্দায়
প্রদর্শনপূর্বক উহা প্রদর্শন করিতে হইবে, যথা ঃ- (ক) তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শনকালে পর্দার মাঝখানে পর্দার আকারের অন্তত এক পঞ্চমাংশ স্থান জুড়িয়া কালো জমিনের উপর সাদা অক্ষরে বাংলা ভাষায় “ধূমপান/তামাক সেবন মৃত্যু ঘটায়” শীর্ষক স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদর্শন করিতে
হইবে এবং উক্তরূপ দৃশ্য যতক্ষণ চলিবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সতর্কবাণী প্রদর্শন অব্যাহত রাখিতে হইবে; (গ) প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য রহিয়াছে এইরূপ সিনেমা আরম্ভ হইবার পূর্বে, বিরতির পূর্বে ও পরে এবং সিনেমা প্রদর্শনের শেষে অন্যূন ২০ (বিশ) সেকেন্ড
সময় পর্যন্ত সম্পূর্ণ পর্দা জুড়িয়া “ধূমপান/তামাক সেবন মৃত্যু ঘটায়” শীর্ষক সতর্কবাণী বাংলা ভাষায় প্রদর্শন করিতে হইবে। আইন অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি এই ধারার বিধান লংঘন করলে তিনি অনুর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক এক লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবে
এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে
উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দন্ডনীয় হইবেন। দেবী সিনেমাটির প্রদর্শন শুরু হলেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে জনপ্রিয় মিসির আলি, তরুণ সমাজের মাঝে একটি অনুকরনীয় চরিত্র। আমাদের তরুন সমাজকে ধূমপানমুক্ত রাখতে, দেবী সিনেমাতে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে রাষ্ট্রীয় অনুদানে নির্মিত, দেবী চলচ্চিত্র কি কোন উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করতে পারে না ?

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..