এবার ২৫ মন্ত্রী–সাংসদের মনোনয়ন নিয়ে শঙ্কা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮
  • ৪০ বার পঠিত
  • এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করেনি আ.লীগ
  • জোট–মিত্রদের জন্য ৭০টি আসনের মতো রাখা হয়েছে
  • প্রার্থীদের মাঠ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে
  • এ জন্য মন্ত্রী-সাংসদদের কম বাদ দেওয়ার পথে আ.লীগ
  • ২০১৪ সালে ৪৮ জন মন্ত্রী–সাংসদ বাদ পড়েছিলেন

প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তনে যাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি আসনে বর্তমান মন্ত্রী-সাংসদ বাদ পড়তে পারেন। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও নীতিনির্ধারণী সূত্র থেকে এমন তথ্যই জানা গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৪৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ বাদ পড়েছিলেন। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দেশি-বিদেশি জরিপ প্রতিবেদন দেখে মনোনয়ন দেওয়া হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ রকম কথা বলে আসছিলেন। তাতে ৭০-৮০ জন মন্ত্রী-সাংসদ বাদ পড়বেন বলে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল।

এবারের মনোনয়নপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, জনপ্রিয়তার ঘাটতির চেয়ে জোট-মহাজোটের সমীকরণ ও প্রকট দলীয় কোন্দলই এ সিদ্ধান্তের পেছনে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যেই বিশেষ পছন্দের কিছু পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও তারকাকে স্থান করে দেওয়া হবে। আবার কিছু আসনে প্রার্থীর বিষয়ে দল এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সব মিলিয়ে ২৫ জনের কম মন্ত্রী-সাংসদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি আওয়ামী লীগ। গতকাল বিকেলে দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার জোটগতভাবে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৪ দল, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্টসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

দলের সংসদীয় বোর্ড সূত্র বলছে, জোট ও মিত্রদের জন্য ৭০টি আসনের মতো রাখা হয়েছে। গতকাল রাতে গণভবনে আসন সমঝোতা নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল, যুক্তফ্রন্টসহ অন্য মিত্রদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, চলমান সরকার ও সংসদ বহাল রেখে এবারই প্রথম সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখতে মন্ত্রী-সাংসদেরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। এ জন্যই মন্ত্রী-সাংসদদের খুব কমই বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে দলটি। নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা কমানোর যে আলোচনা ছিল, সেটি থেকে সরে আসার পেছনেও এই বিবেচনা কাজ করেছে। আবার মন্ত্রী-সাংসদেরা মনোনয়ন না পেলেও পদে থেকেই যাবেন। ফলে নতুন যিনি মনোনয়ন পাবেন, তিনি ওই নির্বাচনী এলাকায় বেকায়দায় পড়তে পারেন—এটিও বিবেচনা রয়েছে দলের নীতনির্ধারকদের।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধীরা বর্জন করেছিল। তখন ১৫৩ আসনে আওয়ামী লীগ ও দলটির মিত্ররা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ভোট হয় ১৪৭ আসনে। ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে। তবে তখন মন্ত্রিসভা ছোট করে ২৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও ১০ জন উপদেষ্টা করা হয়েছিল। সংসদও বহাল ছিল ওই নির্বাচনে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী দুজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জরিপ অনুসারে মনোনয়ন দিলে অনেক মন্ত্রী-সাংসদ বাদ পড়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এর অর্থ দাঁড়ায়, হয় জরিপে সঠিক চিত্র উঠে আসেনি, নতুবা জরিপ পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি।

রোববার থেকে যাঁদের বাদ পড়ার বিষয়ে দলের নেতাদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু প্রমুখ। আরও দুজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থিতা ‘ঝুলন্ত’ অবস্থায় আছে বলে আলোচনা আছে।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই আসনের বর্তমান সাংসদ সোহরাব উদ্দিন। ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটাও প্রায় নিশ্চিত। তিনি নড়াইল-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

মাদারীপুর-৩ আসনে দলের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে সূত্র জানিয়েছে। এ আসনে বর্তমান সাংসদ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

মাগুরা-২ আসনে এ টি এম আবদুল ওহাবের বদলে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখরের নাম শোনা যাচ্ছে।

নোয়াখালী-৪ আসনে একরামুল করিম চৌধুরী দুবারের সাংসদ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। প্রার্থী হিসেবেও বেশ শক্তিশালী। কিন্তু তাঁর কপাল পুড়তে পারে মহাজোটের কারণে। এই আসনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন যুক্তফ্রন্টের নেতা ও বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান। যুক্তফ্রন্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একরামুল করিম চৌধুরীর ঝুঁকি আছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও তাঁর নির্বাচন করার আগ্রহ খুব একটা নেই। সিলেট-১ আসনে তাঁর ভাই এম এ মোমেন এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মনোনয়ন পাওয়ার কথা আলোচনায় আছে। সিলেট-৬ আসনের বর্তমান সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী বিএনপির সাবেক নেতা ও বর্তমানে বিকল্পধারার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সমশের মবিন চৌধুরী। ফলে এই আসনে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আলোচনার বিষয়বস্তু। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর আসনে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে। ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বয়সের কারণে বাদ পড়তে পারেন বলে কিছু নেতা মনে করছেন।

এর মধ্যে গতকাল একাধিক পত্রিকায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু ওবায়দুল কাদের গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পত্রপত্রিকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের যে তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে, তা তাদের মনগড়া। এর কোনো বাস্তবতা নেই। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে কেউ দল বা জোটের প্রার্থী দাবি করতে পারবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..