বিএনপির প্রার্থী ‘নিশ্চিত’ আওয়ামী লীগে ‘সংশয়’

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮
  • ৬০৮ বার পঠিত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে দলের প্রার্থী নিয়ে সংশয়ে আছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের ধারণা, নির্বাচনী সমঝোতায় আসনটি শরিক দলের প্রার্থীকে ছেড়ে দেওয়া লাগতে পারে।

এই আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১৫ জন। বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন পাঁচজন। জাতীয় পার্টিরও প্রার্থী আছেন। এ ছাড়া বিকল্পধারা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মা‌হী বি চৌধুরী এই আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনটি শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। শ্রীনগর উপজেলায় ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৯। আর সিরাজদিখান উপজেলায় ভোটার আছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৩১০ জন।

 

আওয়ামী লীগে মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৫ জন

দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, এই আসনের বর্তমান সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ নির্বাচনে না থাকায় অনেকটাই এলোমেলো অবস্থায় আছে আওয়ামী লীগ। তিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাঁদের শক্তিশালী কোনো প্রার্থী থাকছে না। এখানে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৫ জন। একাধিক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর।

এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া, সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মাকসুদ আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার মালিক সমিতির সভাপতি সুব্রত সরকার, শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তোফাজ্জল হোসেন।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেমকে পরাজিত করেন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও এই আসনে ভোট হয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুর মোহাম্মদ খানকে হারিয়ে সাংসদ হন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।

এদিকে বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী এ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তাই নির্বাচন নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও ধারণা, জোট-মহাজোটের হিসাব-নিকাশে হয়তো তাঁদের আসনটি ছেড়ে দিতে হতে পারে।

গোলাম সারোয়ার বলেন, তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত। মনোনয়নের ব্যাপারেও আশাবাদী। তবে প্রার্থী ঠিক করার ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তই শেষ কথা।

আর নুরুল আলম বলেন, ‘আমি কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন যেহেতু জোট-মহাজোটের ব্যাপার, নেত্রী আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবেন।’

 

বিএনপির প্রার্থী অনেকটাই নিশ্চিত

এই আসনে পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সব কটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি কয়েক মাস আগে বার্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন না করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। তবে তিনি এ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনে তা জমাও দিয়েছেন। আরও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মমিন আলী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ হোসেন ও বিএনপির সমর্থক শেখ আবদুল্লাহ।

স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ধারণা, শাহ মোয়াজ্জেমের প্রার্থিতা অনেকটা নিশ্চিত।

জানতে চাইলে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দেশ বর্তমানে সংকটের মধ্যে আছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভালোবাসায় দেশকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য পুনরায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রচার-প্রচারণার জন্য প্রস্তুত আছি। দল থেকে অনুমতি এলেই মাঠে কাজ করা শুরু হবে।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মমিন আলী বলেন, ‘কেন্দ্র তৃণমূলে জরিপ করলে আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

জাতীয় পার্টির হয়ে এই আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মো. সিরাজুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..