এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু সংরক্ষিত আসনে

advertisement

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গরম শেষ না হতেই এখন আবার শুরু হয়েছে সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে রংপুরের নারী নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সংসদে যে দল বা জোট যতটি আসন পাবে, তার আনুপাতিক হারে নারী আসন বণ্টন হবে। বর্তমানে ৩০০ আসনের সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ প্রতি ছয়টি আসনের বিপরীতে একটি করে নারী আসন রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ। এমপি ও মন্ত্রীদেরও শপথ হয়ে গেছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এখন শুধু অধিবেশন শুরুর অপেক্ষা। আর এই অধিবেশন শুরুর আগে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো বণ্টনের জন্য আগামী সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা পর রংপুরের ক্ষমতাসীন দলের নারী নেত্রীরা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্থে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর থেকে আওয়ামী লীগের অ্যাড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ও জাতীয় পার্টির প্রবীণ শিক্ষিকা সাহানারা বেগমকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদে রংপুর থেকে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেত্রীকে এ আসনে সংসদ সদস্য করার দাবি করছেন তৃণমুল আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়ী করতে ত্যাগী মহিলা নেত্রীরা মাঠে ব্যাপক জনসংযোগ করেছেন। বাড়ি বাড়ি নৌকার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ভোট চেয়েছেন। নির্বাচনে রংপুরের মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে দেওয়া ২টি আসন ছাড়া ৪টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। তাই আওয়ামী লীগের অবস্থান আগের থেকে অনেক ভালো বলে দাবি করছেন তারা।

ভোটের হিসেবে রংপুরে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি। এবার জেলায় ২ জনের পরিবর্তে আরো বেশি সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য করার দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

এদিকে সাধারণ আসনের প্রার্থীরা শপথ গ্রহণের পর থেকে রংপুরের মহিলা নেত্রীরা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ঢাকামুখী হয়েছেন। অনেকে এমপি হতে কেন্দ্রে লবিং শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তুলে ধরছেন তাদের ত্যাগের রাজনীতির বৃত্তান্ত।

এবার এমপি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লতিফা বানু। বিগত রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন কিনেছিলেন তিনি।

লতিফা বানু ছাড়াও মনোনয়ন দৌড়ে আরো রয়েছেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রোজী রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিমা জামান (ববি), জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাকিয়া সুলতানা চৈতি, সহ-সভাপতি জেলা পরিষদের সদস্য পারভীন আক্তার, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম, সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগম মলি। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজুর স্ত্রী বিনতে হুসাইন নাসরিন বানুর নামও শোনা যাচ্ছে।

advertisement

You might also like

advertisement