বিলুপ্তির পথে কুষ্টিয়ার খেজুর পাতার পাটি

advertisement

হাসিবুর রহমান রুবেল, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি খেজুর পাটি এক সময় আপামর মানুষের কাছে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কালের পরিবর্তনে তা বিলুপ্তির পথে। আশির দশকের দিকে ওইসব খেজুর পাটি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে নিত্য প্রয়োজনে ব্যবহার হতো এবং আদিবাসী বৃষ্টি বাদলে খেজুর পাটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতো। মানুষের জীবনে- মানের পরিবর্তনের ফলে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে তাদের পারিবারিক ব্যবহার্য উপকরণে। ফলে ঐতিহ্যবাহী খেজুর পাটির জায়গা দখল করে নিয়েছে শীতল পাটি, নলের পাটি, বিভিন্ন ধরনের চট ও কার্পেট, মোটা পলিথিন হরেক রকমের উপকরণ। এগুলো তৈরি ঝামেলামুক্ত ও সহজে বাজারে পাওয়া যায় বলে আধুনিক মানুষ খেজুর পাটির পরিবর্তে এসব আধুনিক উপকরণ ব্যবহারে দিনদিন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর পাটির কদর। গ্রাম-বাংলার খেজুর পাটির চাহিদা কমে গেলেও কুষ্টিয়ার মিরপুর, কুমারখালী, খোকসা এলাকায় বসবাসরত
আদিবাসীরা আজও এই খেজুর পাটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য খেজুর পাটি তৈরি করে ব্যবহার করছে। সংসারের চাহিদা মেটানোর জন্য পরের বাড়িতে দিনমজুরির কাজে আদিবাসী নারীদের ব্যস্ত থাকতে হলেও অবসর সময়ে তারা যেটুকু সময় পায় সে সময়ে খেজুর পাটি তৈরি কাজে ব্যস্ত থাকে। হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর পাটিকে তারা নিজস্ব সংস্কৃতিতে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। তারা জানায়, আগের মত আর খেজুর গাছও নেই,খেজুরের
পাতাও পাওয়া যায় না। ফলে উপকরণের অভাবে এ শিল্পটি আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী এ পাটি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন খেজুর গাছ ও পাতার। সরকারের বনবিভাগ খেজুর গাছ লাগানোর জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করলে একদিকে যেমন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া খেজুর গাছ রক্ষা পাবে। অপরদিকে পাটি শিল্পের সাথে জড়িত আদিবাসীসহ অন্যান্যরা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারবে।

advertisement

You might also like

advertisement