বৈশাখ রাঙাতে ব্যস্ততায় বসেছে হালখাতার হাট

advertisement

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেলা শুরু হয়েছে। বৈশাখজুড়ে তা চলবে। বৈশাখী মেলা ছাড়াও আয়োজন করা হয়েছে ঘুড়ি কাটাকাটি প্রতিযোগিতার। বসেছে হালখাতার হাট।

খুলনা: নববর্ষে হালখাতা উত্সবকে সামনে রেখে খুলনা মহানগরীর বড় বাজারে বসছে হালখাতার হাট। পহেলা বৈশাখের দুসপ্তাহ আগে থেকে মূলত ব্যবসায়ীরা হালখাতা উত্সবের প্রস্তুতি শুরু করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে হালখাতার জৌলুসে কিছুটা ভাটা পড়লেও খুলনার জুয়েলারি দোকানগুলোতে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। এবারও জেলার ৫ শতাধিক দোকানে হালখাতার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া চাল, চিনি, তেল, ডাল, লবণ, কাপড়, কাঁসা, পিতলের দোকান, হার্ডওয়ার, কসমেটিকসহ বিভিন্ন ধরনের শতাধিক ব্যবসায়ী অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও আয়োজন করেছেন হালখাতা।

খুলনা ধান চাল বণিক সমিতির সভাপতি মনির আহমেদ বলেন, বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন বাংলা বছরের হালখাতার জৌলুসে ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীর সংখ্যাও কমেছে। তারপরও খুলনার ২৫-৩০ জন ধান-চাল ব্যবসায়ী এবারও হালখাতার আয়োজন করেছেন।

খুলনা জেলা জুয়েলারি মালিক সমিতির সভাপতি নিতাইচন্দ্র ভৌমিক বলেন, বড়বাজারসহ নগরীতে ১২০-১৩০টি ও জেলায় ৫ শতাধিক ছোট-বড় জুয়েলারি দোকান হালখাতা উত্সবের আয়োজন করে থাকে। যারা এবারও হালখাতা করবে।

রাজবাড়ী: এবারে বৈশাখী মেলায় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা, বর্ষবরণ উত্সব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিলুপ্ত প্রায় গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, হাতিসহ বিনোদনমূলক ব্যবস্থার আয়োজন রয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা কোর্টমাঠ চত্ব্বরে সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর): মঠবাড়িয়ায় নীল নাচের দলের পরিবেশনা বৈশাখী মেলাকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলছে। নীল উত্সবকে ঘিরে প্রতিবছর পুরো চৈত্রমাস জুড়ে গ্রামেগঞ্জের গৃহস্থের উঠান জুড়ে বসে নীল নাচের আসর। হাটবাজারেও নীল নাচ উপভোগ করছে হাটুরে মানুষ।

উপজেলার বড়মাছুয়া খেজুরবাড়িয়া ঠাকুর বাড়ির মাঠে ঐতিহ্যবাহী এ নীল পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মিরুখালী, কবুতরখালী, শাপলেজাসহ খাছিছিড়া বেপারি বাড়ি ও কালিরহাট গ্রামের নীলখোলার মেলায় নীল পূজা ও নীল নাচ হবে। এসব মেলায় নীল নাচ পরিবেশন হবে।

নীল নাচের দলের দলপতি বড়মাছুয়া ঠাকুর বাড়ির নিত্যানন্দ চক্রবর্তী জানান, পুরো চৈত্র মাস ধরে ১২ সদস্যের নীল দল মঠবাড়িয়ার গ্রামাঞ্চলে নাচগান করে মানুষের মনোরঞ্জন করে। তবে নীল পূজা কমে যাচ্ছে। সেই সাথে নীল দলের নাচও তেমন আর দেখা মিলছে না। ঐতিহ্যের এ নীল নাচ ক্রমেই বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।

বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ): বাজিতপুর বাজার বাঁশমহলে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক বৈশাখী মেলা ও ঘুড়ি কাটাকাটি প্রতিযোগিতা। শতাধিক বছর ধরে চলে আসা বাঁশ মহলের এই মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে ঘুড়ি ওড়ানোর উত্সব। এ মেলা থেকেই ঘুড়ি কিনে আশপাশের বিশাল মাঠে ঘুড়ি কাটাকাটি প্রতিযোগিতা হয়। মেলার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মেলাতে গ্রামীণ ও লোকজ নানা দ্রব্যাদির সঙ্গে সঙ্গে সমাহার ঘটে পাকা গাব এবং বেত বীচি (আঞ্চলিক ভাষায় বেত গুডা); যা সব শ্রেণির মানুষই কিনে।

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ): এবার পহেলা বৈশাখে ২০ বছরে পা রেখেছে বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশন। একুশে টিভির ২০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে বৃহত্ আকারের সন্দেশের আয়োজন করা হয়েছে সিরাজগঞ্জে। একুশে ফোরামের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫০ কেজি ওজনের ছানার সন্দেশটি কাটা হবে। এনায়েতপুর, শাহজাদপুর উপজেলার ঘোষদেশ সম্মিলিত বোর্ড এই বৃহত্ সন্দেশটি তৈরি করেছে।

আয়োজক একুশে ফোরামের সভাপতি আখতারুজ্জামান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ডনু জানান, ইটিভির প্রতিনিধি স্বপন মির্জা তার এই প্রস্তাবের কথা বললে আমরা বিষ্মিত হই। পরে ঘোষদের সাথে আলোচনা করে ৫০ কেজি ওজনের ছানার সন্দেশটি তৈরি করেছি। আমাদের এজন্য ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যার লম্বা ৩ হাত, প্রস্থ সোয়া ২ হাত ও উচ্চতা সাড়ে ৩ ইঞ্চি। আমরা চাই সন্দেশটি যেন গিনেস ওয়াল্ড রেকর্ড বুকে স্থান পায়।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বাংলা নববর্ষ-১৪২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতপাড়ের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার হোটেল লবিতে গ্রামীণ নানা সাজের স্টলের মেলার উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও ওশান প্যারাডাইসের চেয়ারম্যান লায়ন এম এন করিম।

পরে তারা মেলায় স্থান পাওয়া বিলুপ্তপ্রায় মৃিশল্প তৈরি চাকা, ডাকবক্স, টাইপরাইটার মেশিন, আচার স্টল, হারু (চাক্তি) খেলা, মিষ্টির দোকান, বায়োস্কোপসহ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন শিল্পের চিহ্ন সংগ্রহ করে তুলে ধরে ওশান প্যারাডাইস কর্তৃপক্ষ পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। এতে তারা ধন্যবাদ পাবার দাবিদার।

ওশান প্যারাডাইস’র পরিচালক আবদুল কাদের মিশু জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলমান মেলাটি পর্যটকসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। রবিবার শোভাযাত্রার পাশাপাশি বৈশাখী খাবার রাখা হয়েছে। হোটেল অতিথি বা ওয়াকিং গেস্টরাও চাইলে সাশ্রয়ী রেটে বৈশাখী ভোজন করতে পারবে।

advertisement

You might also like

advertisement