অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

advertisement

স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম সূচক। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মূলধারার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রধান অন্তরায়। যা প্রকারান্তরে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। এই আইন তথ্য অধিকার আইনের সুফল লাভের ক্ষেত্রেও বড় বাধা।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় সাংবাদিকতার জন্য সহায়ক কৌশল হিসেবে তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকারি গোপনীয়তা আইনের পুনরুজ্জীবন ঘটেছে বলেও সভায় মত আসে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন, নরওয়ের অসলোমেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে।

সভায় বিদেশি কূটনীতিক, সাবেক দুই প্রধান তথ্য কমিশনার, গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন। সাবেক দুই প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান ও মোহাম্মদ জমির এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। আর্টিকেল নাইনটিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল এতে সভাপতিত্ব করেন।

সিডসেল ব্লেকেন বলেন, তথ্য পাওয়ার অধিকারের নিশ্চয়তা গণতন্ত্রকে সমুন্নত করে। বর্তমানে তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগে ফেইক নিউজ, সাইবার ক্রাইমের মতো বিষয়গুলো ঠেকাতে রেগুলেটরি আইন-কানুনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এসব আইন যাতে কোনো অবস্থাতেই স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। আইনটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে যা প্রকারান্তরে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

মোহাম্মদ জমির বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ খুবই জরুরি। কেননা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ঘটনার একটি দিক দেখলেই হয় না বরং পুরো দৃশ্যপট দেখা জরুরি।

অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মূলধারা সাংবাদিকতাকে টেক্কা দিচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে বিকল্প বের করে এগুতে হবে। সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, অর্থশক্তি ও পেশিশক্তির কাছে সাংবাদিকতা বন্দী হয়ে পড়ছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। সাংবাদিকতা এবং আইন সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তথ্য অধিকার হরণের জন্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করলেও সাম্প্রতিক হলমার্ক কেলেঙ্কারি, জজ মিয়া নাটক, জাহালামের মুক্তির মতো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আমাদের আশার পথ দেখায়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারের প্রতিনিধি সেলিম সামাদ, এমআরডিআই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিবুর রহমান মুকুর, সাংবাদিক রিতা রহমানসহ আরো অনেকে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

advertisement

You might also like

advertisement