দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পেছনে দুই ঘণ্টায় ব্যয় ৩ হাজার টাকা

advertisement

মাত্র দুই ঘণ্টার এমসিকিউ টাইপের পরীক্ষার জন্য একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর পেছনে প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি)। আগামী ৩ মে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারী (সকাল ১০টা থেকে ১২টা) পরীক্ষায় নিজস্ব ব্যবস্থায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতিলেখক দিচ্ছে কমিশন। কর্ম কমিশন কর্তৃক মনোনীত শ্রুতিলেখকরা রোভার স্কাউটস/গার্লস গাইডের চৌকস সদস্য।

এসব শ্রুতিলেখকদের কমিশনের পক্ষ থেকে সম্মানী, যাতায়াত ও খাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি পরীক্ষা হলে প্রতিবন্ধী প্রার্থীর জন্য ভিন্ন কক্ষে আসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কাজে ভিন্ন পরিদর্শকও নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নানামুখী প্রতিবন্ধী বান্ধব কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পিএসসি। যদিও আগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা নিজেরাই শ্রুতিলেখক দিতেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছারউদ্দীন বলেন, শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিজন রোভার স্কাউটস/গার্লস গাইডের পিছনে কমিশন প্রায় ২৫০০ টাকা ব্যয় করছে। এর মধ্যে সম্মানী ভাতা আছে ১৬শ টাকা। এছাড়াও যাতায়াত ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। পাশাপাশি একজন সাধারণ পরীক্ষার্থী যেখানে ৭শ টাকা দিয়ে বিসিএসের ফরম পূরণ করেন সেখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা মাত্র একশ টাকায় সেই সুযোগ পেয়েছেন। ফলে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পেছনে আমাদের প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা যাতে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেন তার জন্য কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থীদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শ্রুতিলেখক ব্যবহারে অনুমিত প্রদান করা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শ্রুতিলেখকের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রতিবন্ধী প্রার্থীর চেয়ে একধাপ নিচের হয়ে থাকে। বিগত বিসিএস পরীক্ষায় দেখা গেছে অধিকাংশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রার্থীই পরীক্ষার পূর্ব দিন পর্যন্ত নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের জন্য কমিশনে আবেদন করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী প্রার্থী কর্তৃক শ্রুতিলেখক হিসেবে মনোনীত অধিকাংশ ব্যক্তিই স্নাতক/স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন, অথবা কেউ কেউ স্নাতক পাশ।

আবার দেখা গেছে প্রতিবন্ধী প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী যে ব্যক্তিকে কর্ম কমিশন হতে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি অসুস্থতার জন্য বা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পরীক্ষার দিন শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। সে ক্ষেত্রে কমিশনকে একই পরীক্ষায় বারবার শ্রুতিলেখক পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রতিবন্ধী প্রার্থীগণ বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন শ্রুতিলেখকের দাবি করেছেন। তাতে বিসিএস এর মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় সমতা রক্ষা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় নানাবিধ জটিলতার উদ্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, জটিলতা নিরসনের এবং বিসিএস পরীক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় সমতা, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পূর্ণ কমিশন সভায় প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের কর্ম কমিশন কর্তৃক সমরূপ শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন শ্রুতিলেখক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কর্ম কমিশন কর্তৃক মনোনীত শ্রুতিলেখকগণ রোভার স্কাউটস/গার্লস গাইডদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস এবং স্নাতক প্রথম বর্ষ বা স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

চেয়ারম্যান আরো বলেন, শ্রুতিলেখক হিসেবে মনোনীত রোভার স্কাউটস/গার্লস গাইডের সদস্যদের কমিশনের পক্ষ থেকে শ্রুতিলেখকের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে একদিন ব্যাপী নিবীড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ কাজে প্রতিজন রোভার স্কাউটস/গার্লস গাইডকে ১৬০০ টাকা করে সম্মানী প্রদান করা হবে। পরীক্ষার দিন সকালে তাদের কমিশনের ব্যবস্থাপনায় গাড়িতে পরীক্ষা হলে নিয়ে যাওয়া হবে এবং পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফেরত প্রেরণ করা হবে। তাতে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিজন রোভার স্কাউটস/গার্লস গাইডের পিছনে কমিশন নূন্যতম ২৫০০ টাকা ব্যয় করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পিটিআই ইন্সট্রাক্টর পদের লিখিত পরীক্ষায় কর্ম কমিশন কর্তৃক রোভার স্কাউটস/গার্লস গাইডদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। চৌকস রোভার স্কাউটস এবং গার্লস গাইডের সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কর্ম কমিশন কর্তৃক গৃহীত উক্ত পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

You might also like

advertisement